বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় দৈনিক কালের দিগন্ত
২য় পাতা - নগর, জনপদ ও আন্তর্জাতিক ❖ ঢাকা সংস্করণ
বিশেষ আয়োজন
কালের দিগন্ত ই-পেপার পড়ার সহজ মাধ্যম
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
যোগাযোগ: [email protected]
২য় পাতা - নগর, জনপদ ও আন্তর্জাতিক
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
পৃষ্ঠা: 2
● প্রধান প্রতিবেদন
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যে নির্দেশনা দিলেন
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যে নির্দেশনা দিলেন
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। খামেনির ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকে ইরানের বর্তমান সামরিক কৌশল, অর্থনীতি, জাতীয় ঐক্য এবং হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় প্রতিরোধ এবং প্রতিরোধের ফলেই শত্রুপক্ষ আজ হতাশ হয়ে পড়েছে বলে বৈঠকে মন্তব্য করেন সাইয়েদ খামেনি।তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এবং এর জেনারেল সেক্রেটারিয়েট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সাথে তিনি দেশের সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রগুলো যে একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত, তা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরির নির্দেশনা দেন।এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মহসেনি-এজেই সর্বোচ্চ নেতার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। স্পিকার গালিবাফ জানান, নেতার সাথে আলোচনায় সামরিক পরিস্থিতি, প্রতিরোধ অক্ষ এবং চলমান কূটনৈতিক পর্যালোচনার বিষয়গুলো বিশদভাবে উঠে এসেছে। অন্যদিকে বিচার বিভাগের প্রধান বলেন, সর্বোচ্চ নেতার দৃঢ় বিশ্বাস, বিচক্ষণতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেশকে যেকোনো সংকট মোকাবিলায় সঠিক পথ দেখাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখাকেই ইরান এখন প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে।
—ক্লিক করে পড়ুন
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে ‘অর্ণব’, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি আগামী ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ভোর ৩টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৮ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এই গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ রয়েছে।পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
—সম্পূর্ণ পড়ুন
'মাদার অব অল বোম্বসের' বাবা হলো ইরানি জনগণ: আলিরেজা
যুক্তরাষ্ট্রের বোমা ও যুদ্ধের হুমকির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ইরানের সেনাবাহিনীর নির্বাহী বিষয়ক উপ-প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা শেখ বলেছেন, ইরানি জাতি নিজেই সব বোমা সৃষ্টি করতে সক্ষম। তারাই হলো মাদার অব বোম্বসেরইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আবারও যুদ্ধ শুরুর হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শত্রুর যেকোনো অতিরিক্ত বা অন্যায্য দাবির জবাব এ দেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে প্রদান করবে। ফলে এ বিষয়ে কোনো ধরনের দুশ্চিন্তার সুযোগ নেই। বোমাবর্ষণ করে একটি দীর্ঘদিনের সভ্যতাকে কখনো ধ্বংস করা সম্ভব নয়, তাই এই জাতির বিরুদ্ধে শত্রু কখনোই তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সফল হতে পারবে না।জেনারেল আলিরেজা শেখ আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় ইরানের সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক প্রস্তুতি। শত্রুর যেকোনো ধরনের দুঃসাহসের জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে এবং তাদের আঙুল এখন ট্রিগারে রয়েছে।এর আগে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সমন্বয়কারী উপ-প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক ভুল হিসাব-নিকাশ না করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। সে সময় তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ওয়াশিংটনের তথাকথিত মাদার অফ অল বোম্বস বা সব বোমার মায়ের উপযুক্ত জবাব ইরান দেবে নিজেদের ফাদার অফ বোম্বস বা সব বোমার বাবা দিয়ে।
—সম্পূর্ণ পড়ুন
● বিশ্লেষণ ও সংবাদ
সাহেল অঞ্চলে প্রভাব বাড়াতে চীনের দিকে ঝুঁকছে টোগো
চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ টোগো। দেশটির বন্দর, পরিবহন অবকাঠামো ও শিল্প খাতকে কাজে লাগিয়ে লোমেকে পশ্চিম আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে বেইজিং ও লোমে। এর মাধ্যমে সাহেল অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি আফ্রিকায় নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে চীনের জন্য।টোগোর প্রেসিডেন্ট কাউন্সিলের প্রধান ফাউরে এসোজিমনা গ্নাসিংবে ৯ থেকে ১৬ অক্টোবর চীন সফর করেন। সফরে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। ১৩ অক্টোবর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার অংশীদারত্বে উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। পরদিনগুলোতে বাণিজ্য, অবকাঠামো, কৃষি, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।দুই দেশের যৌথ ঘোষণায় টোগোর শিল্পায়ন, কৃষির আধুনিকায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে চীনের শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লোমে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিমানবন্দর ও বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। টোগোকে পশ্চিম আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যও এতে উঠে এসেছে।টোগোর কৌশলগত গুরুত্বের অন্যতম ভিত্তি লোমে বন্দর। গিনি উপসাগরের উপকূলে অবস্থিত এই বন্দর পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থলবেষ্টিত সাহেল অঞ্চলের দেশগুলোর জন্যও এটি সমুদ্রপথে পণ্য আনা-নেওয়ার বিকল্প প্রবেশদ্বার হতে পারে। বিশেষ করে নাইজার ও বেনিনের সীমান্ত বন্ধ থাকার কারণে আঞ্চলিক বাণিজ্যপথে যে পরিবর্তন এসেছে, তাতে টোগোর বন্দর ও স্থলপথের গুরুত্ব বেড়েছে।বন্দরকেন্দ্রিক কার্যক্রমের পাশাপাশি টোগোর আদেতিকোপে শিল্প প্ল্যাটফর্মও দেশটির পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অবকাঠামো পণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিল্প উৎপাদন এবং বিভিন্ন বাজারে পণ্য পুনর্বণ্টনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। চীনের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে টোগো শুধু পণ্য পরিবহনের কেন্দ্র নয়, বরং আঞ্চলিক উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার অংশ হওয়ার সুযোগ খুঁজছে।চীন ও টোগোর বাণিজ্যিক সম্পর্কও সম্প্রসারিত হয়েছে। টোগো ফার্স্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫৫ শতাংশ বেশি। চীন টোগোর আমদানির প্রধান উৎস। দুই দেশের নতুন সহযোগিতার কাঠামোয় টোগোর কৃষিপণ্য, বিশেষ করে সয়াবিন চীনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ও রয়েছে।তবে এই অংশীদারত্বের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে ঘোষিত উদ্যোগগুলো কতটা বাস্তবায়িত হয় তার ওপর। অবকাঠামো ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান এবং টোগোর উৎপাদকদের জন্য নতুন বাজার তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিনিয়োগের শর্ত, অর্থায়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতাও এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য।চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের মধ্য দিয়ে টোগো একদিকে নিজস্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে, অন্যদিকে সাহেল অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিজের ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগাতে চাইছে। পরিকল্পনাগুলো সফল হলে লোমে বন্দর পশ্চিম আফ্রিকার বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ভর করবে দুই দেশের ঘোষিত সহযোগিতা বাস্তবে কতটা অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনে তার ওপর।
—ক্লিক করে পড়ুন
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ, তেহরানে বৈঠকে ইরান-সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান
পশ্চিম এশিয়ার চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তেহরানে বৈঠকে বসেছে ইরান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কৌশল, গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতি এবং অঞ্চলটির নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।সোমবার তেহরানে বৈঠক শেষে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মহসেন রেজাই বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় নতুন সমীকরণ তৈরির ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকের পরিবেশ ছিল ইতিবাচক। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালেদ বিন সালমান এবং তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন উপস্থিত ছিলেন। ইরানের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন মহসেন রেজাই ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বৈঠক-পরবর্তী পর্যায়ে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।আলোচনায় দক্ষিণ লেবানন, দক্ষিণ সিরিয়া, গাজা এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।তবে বৈঠক থেকে বড় কোনো ঘোষণা আসেনি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পাদিত ‘মক্কা প্যাক্টে’ ইরান স্বাক্ষর করেনি। অতীতে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকায় চার দেশের প্রতিনিধিদের একই টেবিলে বসাকে আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।এদিকে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান আবার চালানোর সম্ভাবনার কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের নাম ছিল ‘এপিক ফিউরি’। এই প্রেক্ষাপটে তেহরানের বৈঠক আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।
—সম্পূর্ণ পড়ুন
ইরান মাথা নোয়াবে না, যুক্তরাষ্ট্র করবে কি?
ইরানের শীর্ষ নেতারা মার্কিনী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন। তারা বলেছেন, কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার জবাব হবে ‘অকল্পনীয়’। তেহরান আরও স্পষ্ট করেছে যে, তারা সামরিক হুমকির মুখে কখনোই মাথা নত করবে না।ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন সরকার যদি মনে করে যে মিডিয়ার চাপ বা সামরিক ভয় দেখিয়ে ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো যাবে, তবে তারা ভুল করছে। গালিবাফ পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার সময় বলেছেন, মার্কিনরা মনে করে, কয়েকটা সংবাদপত্রের মাধ্যমেই হোক বা সামরিক হুমকির মাধ্যমে, তারা আমাদের মহান জাতিকে হার মানাতে পারবে। কিন্তু তারা জানে না, আজকের ইরান পাহলভি যুগের মতো দুর্বল নয় বরং এটি আত্মবিশ্বাস, প্রতিরক্ষা ক্ষমতা এবং ইস্পাত-কঠিন সংকল্পের একটি অজেয় দুর্গ।গালিবাফ আরও বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তাদের আচরণ পরিবর্তন না করবে, তাদের জবরদস্তিমূলক এবং লোভী মনোভাব বন্ধ না করবে এবং বাস্তবিকভাবে তাদের লঙ্ঘিত প্রতিশ্রুতি পূরণ না করবে, ততক্ষণ তাদের কোনো কথার বিশ্বাসযোগ্যতা থাকবে না।উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক। ইরান সবসময় হরমুজকে তাদের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। এই প্রণালীটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনের রুট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক মন্তব্যে বলেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাতে পারেন বা একটি সুন্দর, সুন্দর চুক্তি করতে পারেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেছেন, বর্তমান যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। তিনি যোগ করেছেন, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনাও আর আগের মতো থাকবে না। তেহরান চায় আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কোনো বাইরের হস্তক্ষেপ নয়।
—সম্পূর্ণ পড়ুন
● বিশেষ ফিচার
৭ নভেম্বর ব্যাংক বন্ধ, যেসব সেবা চালু থাকতে পারে
আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশের সব তফশিলি ব্যাংকে নিয়মিত লেনদেন বন্ধ থাকবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।সার্কুলারে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ৭ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে সরকার ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এ কারণে ওই দিন বাংলাদেশে কার্যরত সব তফশিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে।ছুটির দিনে ব্যাংকের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এটিএম বুথ, কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মতো সেবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী চালু থাকতে পারে।
—ক্লিক করে পড়ুন
ইরান, পাকিস্তানসহ চার দেশের বৈঠক তেহরানে, লক্ষ্য উত্তেজনা কমানো
ইরান, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে চার দেশের একটি বৈঠক ইরানের রাজধানী তেহরানে শুরু হয়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, এই আলোচনার মূল লক্ষ্য আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি ঠেকানো এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ তৈরি করা।বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনির, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এবং তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন। ইরানের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই।এর আগে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের এই বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধ করা এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি করা। বিবৃতিতে আলোচনার পথ খোলা রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আসিম মুনিরের উদ্যোগে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আসিম মুনিরের ভূমিকার কারণে আলোচনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।এর আগে গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক একটি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তিটি ‘মক্কা চুক্তি’ নামে পরিচিত। চার দেশের বর্তমান বৈঠক আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে নতুন অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
—সম্পূর্ণ পড়ুন
উদ্বোধনের পরদিনই অচল ১০ কোটি ৮২ লাখ টাকার আধুনিক কসাইখানা, মরিচা ধরছে যন্ত্রপাতিতে
ঝিনাইদহে ১০ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক কসাইখানা উদ্বোধনের পরদিন থেকেই কার্যত বন্ধ রয়েছে। চালু না হওয়ায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, অন্যদিকে কোনো কার্যক্রম ছাড়াই প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে ঝিনাইদহ পৌরসভাকে। প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবে জনগণের অর্থে নির্মিত এই স্থাপনাটি কাজে আসছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।শহরের পবহাটি কলা হাটসংলগ্ন এলাকায় ৪৯ শতকের বেশি জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক এই কসাইখানা। গত ১৭ জুন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এর উদ্বোধন করেন। আধুনিক পদ্ধতিতে পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করাই ছিল প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।তবে উদ্বোধনের পরও কসাইখানাটির কার্যক্রম চালু না হওয়ায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় মূল্যবান যন্ত্রপাতিতে মরিচা ধরছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ব্যবহার না হলে এসব যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। অথচ স্থাপনাটি চালু না থাকলেও প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিলের বোঝা বহন করতে হচ্ছে পৌরসভাকে।এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ আলী খান বলেন, “আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ করা হলেও এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।”সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, কার্যকর পরিচালনব্যবস্থা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা না গেলে এত বড় বিনিয়োগের সুফল পাওয়া কঠিন হবে।এদিকে, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাটি কেন এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি, তা নিয়ে সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নগরবাসী।জনগণের অর্থে নির্মিত এই আধুনিক কসাইখানা কবে নাগাদ চালু হবে, কারা এর পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন এবং অব্যবহৃত যন্ত্রপাতি রক্ষায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।উদ্বোধনই কি প্রকল্পের শেষ কথা, নাকি অবশেষে চালু হবে ১০ কোটি ৮২ লাখ টাকার এই আধুনিক কসাইখানা? এখন সেই প্রশ্নই ঝিনাইদহবাসীর।
এই পাতার গুরুত্বপূর্ণ সারসংক্ষেপ
অন্যান্য পাতার সংবাদ পড়তে বামপাশের পাতাসমূহ থেকে পছন্দমতো পাতায় ক্লিক করুন।
● বিশেষ আয়োজন
কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় আগুন, নিহত ১
ঢাকার কেরানীগঞ্জে আমিন প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুর ২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা তালহা বীন জসিম গণমাধ্যমকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসা ও হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেন।তিনি জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর প্রথমে পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে আগুন নেভানোর কাজে আরও তিনটি ইউনিট যুক্ত হয়। সব মিলিয়ে আটটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।অগ্নিকাণ্ডে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও নিহত ব্যক্তির পরিচয় এবং আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
—ক্লিক করে সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পড়ুন