হাসিনা–কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্ত: জুলাই শহীদদের ক্ষতিপূরণে আদালতের রায়
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১৭-১১-২০২৫ ০৩:৫৪:৫৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-১১-২০২৫ ০৩:৫৪:৫৩ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৬৮ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে তাদের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে তা শহীদ পরিবার ও আহতদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে ট্রাইব্যুনাল-১ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে রায়ের কার্যক্রম শুরু হয়, যেখানে ছয় অধ্যায়ে বিভক্ত ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায় পাঠ করা হয়। বিচারপতিরা জানান, অভিযুক্তরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে আন্দোলন দমনে ‘প্রাণঘাতী শক্তি’ প্রয়োগের নির্দেশ দেন, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধাপরাধ আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।
রায়ে বলা হয়, গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা উসকানিদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মামলার অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে—ড্রোন, হেলিকপ্টার ও লাইভ গুলি ব্যবহার করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর দমন অভিযান চালানো হয়। রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে হত্যা এই মামলার প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে।
ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, বিভিন্ন ভিডিও, অডিও এবং সাক্ষ্য-প্রমাণে শেখ হাসিনার নির্দেশনার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া, প্রমাণ হিসেবে আন্দোলনের সময় তার ফোনালাপের রেকর্ডও আদালতে উপস্থাপন করা হয়। রায়ের অংশে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন উল্লেখ করে আন্দোলন দমনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথাও তুলে ধরা হয়।
এ মামলায় আরেক আসামি, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ মামুন—রাজসাক্ষী হয়ে যাবতীয় তথ্য আদালতে দিয়েছেন। তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। তবে প্রধান দুই আসামি শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান পলাতক অবস্থায় আছেন। আদালতের মন্তব্য অনুযায়ী, তাদের অবস্থান বর্তমানে ভারতে।
এই রায় প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে, এই সিদ্ধান্ত ‘নির্যাতিতদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে যুগান্তকারী’। তবে অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
অভ্যুত্থান চলাকালীন সময়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, বাড্ডা, সাভার, রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে নিহতদের ঘটনা ও ভিজ্যুয়াল প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালত এটিকে ‘পরিকল্পিত গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দেয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।