তনু হত্যা: সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ
ডিএনএ প্রোফাইল পরীক্ষার জন্য আসামিদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করে পিবিআই, তারা সৌদি আরবে আছেন বলে ধারণা
- আপলোড সময় : ০২-০৯-২০২৬ ১১:২০:১৭ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৩-০৯-২০২৬ ০৭:৫৮:০১ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৪০ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে সন্দেহভাজন সাবেক দুই সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। অভিযুক্ত দুইজন হলেন—সাবেক সার্জেন্ট মো. জাহিদুজ্জামান (৪৮) ও সাবেক সৈনিক মো. শাহীন আলম (৩৭)। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি-ঢাকা)-এর মাধ্যমে ইন্টারপোল এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বুধবার এনসিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হত্যাকণ্ডের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রবল ধারণা, অভিযুক্ত জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলম বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করে আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলছেন। ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির পর বিষয়টি ইতিমধ্যে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট পুলিশি ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের অভ্যন্তরীণ একটি জঙ্গল থেকে তনুর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর পরদিন তাঁর বাবা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত ভার সিআইডির হাতে থাকলেও দীর্ঘ সময়ে তদন্তের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২০ সালে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআইয়ের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ভুক্তভোগী তনুকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।পরবর্তীতে তদন্তের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরে সন্দেহভাজনদের শনাক্তে নতুন মোড় আসে। মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত তিন সেনা সদস্যের ডিএনএ প্রোফাইল তনুর নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার (ক্রসম্যাচ) জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানান। এর প্রেক্ষিতে কুমিল্লার একটি আদালত জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমকে গ্রেপ্তার এবং তাঁদের ডিএনএ সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়ার অনুমতি প্রদান করেন। সেই নির্দেশনার আলোকেই পিবিআই ও এনসিবি ঢাকা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইন্টারপোলে পাঠালে সংস্থাটি এই রেড নোটিশ অনুমোদন করে। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় অভিযুক্ত এই দুই সাবেক সেনা সদস্য কুমিল্লা সেনানিবাসের ভিন্ন দুটি ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।