পড়াশোনায় অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইমের প্রভাব
দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার ও ট্যাবলেটের পর্দায় তাকিয়ে থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। স্ক্রিন ব্যবহারে প্রয়োজন সচেতনতা ও সময়ের ভারসাম্য।
- আপলোড সময় : ২৩-১০-২০২৬ ১২:২২:০২ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৩-১০-২০২৬ ১২:২২:০২ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৬৮ বার পঠিত
প্রতীকী ছবি- ( সংগৃহীত)
বর্তমানে পড়াশোনার পাশাপাশি মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের সময় বেড়েছে। অনলাইন ক্লাস ও শিক্ষামূলক কনটেন্টের জন্য এসব ডিভাইস প্রয়োজনীয় হলেও অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম পড়াশোনার অভ্যাস ও শেখার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পড়ার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, ভিডিও দেখা কিংবা গেম খেলার অভ্যাস শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও সময় ব্যবস্থাপনায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
পড়ায় মনোযোগ কমে যাওয়া
পড়াশোনার সময় বারবার মোবাইলের নোটিফিকেশন দেখা বা অন্য অ্যাপে চলে যাওয়ার ফলে পড়ার ধারাবাহিকতা নষ্ট হতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের একই বিষয় বারবার পড়তে হতে পারে এবং পাঠ বুঝতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে। দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
শেখা ও মনে রাখার ক্ষেত্রে প্রভাব
পড়ার মাঝখানে ঘন ঘন অন্য কাজে মনোযোগ দেওয়ার কারণে কোনো বিষয় গভীরভাবে বোঝা এবং শেখা তথ্য মনে রাখার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে জটিল বিষয় অনুধাবন, সমস্যা সমাধান এবং দীর্ঘ লেখা পড়ার সময় মনোযোগের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ। তাই পড়াশোনার সময় অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন ব্যবহার শেখার কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।
পড়াশোনার সময় নষ্ট হওয়া
অনেক শিক্ষার্থী অল্প সময়ের জন্য মোবাইল ব্যবহার শুরু করলেও পরে দীর্ঘ সময় ভিডিও দেখা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যয় করে। ফলে পড়ার জন্য নির্ধারিত সময় কমে যায় এবং বাড়ির কাজ, পুনরাবৃত্তি ও পরীক্ষার প্রস্তুতি অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে। নিয়মিত এমন অভ্যাস তৈরি হলে পড়াশোনার রুটিন বজায় রাখাও কঠিন হতে পারে।
পড়ার অভ্যাসে পরিবর্তন
দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল কনটেন্ট দেখার অভ্যাসের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে বই পড়া বা কোনো একটি বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার অভ্যাসের সংঘাত তৈরি হতে পারে। তবে এর প্রভাব সবার ক্ষেত্রে একই রকম নয়। স্ক্রিনে কী ধরনের কনটেন্ট দেখা হচ্ছে, কতক্ষণ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ব্যবহারটি পড়াশোনার উদ্দেশ্যে কি না—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
যেভাবে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো যায়
পড়ার সময় অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকা এবং প্রতিদিনের পড়ার পরিকল্পনা তৈরি করা সহায়ক হতে পারে। অনলাইন শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের পর অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ করে পড়ায় ফিরে আসার অভ্যাসও গড়ে তোলা প্রয়োজন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় ধরে পড়া এবং পরিকল্পিত বিরতি নেওয়া পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
সব মিলিয়ে, অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিনটাইম শিক্ষার্থীদের পড়ায় মনোযোগ, শেখার ধারাবাহিকতা এবং সময় ব্যবস্থাপনায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই পড়াশোনার প্রয়োজনে প্রযুক্তি ব্যবহার করার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন ব্যবহারের সময় নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।