কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারায় আনার উদ্যোগ, জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোর খসড়া প্রকাশ
- আপলোড সময় : ২৫-১১-২০২৫ ১১:১৮:১৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৫-১১-২০২৫ ১১:১৮:৪৪ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৭৯ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে দেশের সাধারণ, কারিগরি ও আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার সমমানের কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই ব্যবস্থার সনদগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানে উন্নীত করা এবং তিন ধারার শিক্ষার সঙ্গে সমন্বয় তৈরিই নতুন নীতিমালার মূল লক্ষ্য।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো নীতিমালা ২০২৫’-এর একটি খসড়া প্রকাশ করেছে, যা ১৬ নভেম্বর কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে জনমতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। নীতিমালায় বলা হয়েছে, শিক্ষার বিভিন্ন ধারায় যোগ্যতার সজ্ঞায়ন, পূর্ব অর্জিত অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে হয় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা জরুরি।
নীতিমালার সংজ্ঞায় উল্লেখ করা হয়, দেশে মাদ্রাসা শিক্ষা দুটি প্রধান ধারায় পরিচালিত হয়—
১. আলিয়া মাদ্রাসা, যা সরকার স্বীকৃত ও সাধারণ বিষয়ের সমন্বিত;
২. কওমি মাদ্রাসা, যা স্বতন্ত্র ধর্মীয় পাঠ্যক্রমভিত্তিক।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) সামসুর রহমান খান জানান, কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। অতীতে শুধু দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান দেয়া হলেও কাঠামোগত সংস্কারের জন্য কওমি ব্যবস্থাকে নিচের স্তর থেকে উপরের দিকে ধাপে ধাপে স্বীকৃতির আওতায় আনতে হবে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে গুণগত মান রক্ষা অপরিহার্য।
ধাপে ধাপে কোন স্তরে কীভাবে স্বীকৃতি দেয়া হবে—এ বিষয়ে তিনি বলেন, বাস্তবায়ন ম্যানুয়েল তৈরি হচ্ছে। এতে কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স, বিষয়ভিত্তিক পাঠ্যক্রমের পরিমাণ এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য–এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকবে। নীতিমালা প্রণয়ন প্রথম ধাপ, বাস্তবায়ন হবে পরবর্তী পর্যায়ে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলো নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন একটি সাধারণ কাঠামোর অধীনে গুণগত মান বজায় রাখে। দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে মূলধারার বাইরে রেখে দেয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাও ইতিবাচক হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।