ইতালিতে দুই বাংলাদেশিকে অপহরণ, গ্রেফতার ৩ বাংলাদেশি
- আপলোড সময় : ২৫-১২-২০২৫ ১০:৪৮:১৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৫-১২-২০২৫ ১০:৪৮:১৫ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৬১ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
ইতালিতে দুই বাংলাদেশি অভিবাসীকে অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে চার বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত করেছে দেশটির পুলিশ। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর একজন এখনও পলাতক রয়েছে।
ইতালির কাতানিয়া পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসের নির্দেশে রাগুসা পুলিশ সদর দফতর ২৫, ৩৩, ৩৪ ও ৪৩ বছর বয়সী চার বাংলাদেশির বিরুদ্ধে কারাগারে আটক রাখার আদেশ কার্যকর করছে।
প্রসিকিউটর কার্যালয়ের অ্যান্টি-মাফিয়া অধিদফতর (ডিডিএ) এ ঘটনার সার্বিক তদন্ত পরিচালনা করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণ ও গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের নির্দোষ হিসেবে গণ্য করার নীতিও বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে বিচারিক কর্তৃপক্ষ।
তদন্তে জানা যায়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইতালির সিসিলি অঞ্চলের ভিটোরিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ‘দেক্রেতো ফ্লুসি’ কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়মিতভাবে ইতালিতে আসা দুই বাংলাদেশি যুবককে চাকরি ও চুক্তি সইয়ের আশ্বাস দিয়ে পাচারের ফাঁদে ফেলা হয়।
ইতালিতে পৌঁছানোর পর তাদের ভিটোরিয়ার একটি নির্জন গ্রামীণ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়, যা কার্যত একটি বন্দিশালায় পরিণত করা হয়েছিল। সেখানে ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং হাত-পা বেঁধে আলাদা কক্ষে আটকে রাখা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা শেকল, লোহার রড ও ধাতব পাইপ দিয়ে তাদের মারধর করে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও চালায়। প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে এই নির্যাতন অব্যাহত ছিল।
তদন্তকারীরা জানান, মূল উদ্দেশ্য ছিল ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়। নির্যাতনের সময় পরিবারের সদস্যদের ফোন করে ভুক্তভোগীদের চিৎকার শোনানো হতো, যাতে তারা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত অর্থ পাঠাতে বাধ্য হয়।
প্রায় ২০ হাজার ইউরো মুক্তিপণ পাওয়ার পর দুই ভুক্তভোগীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপরও পুলিশে অভিযোগ করলে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নির্যাতনের ধরন লিবিয়ায় অভিবাসী পাচারকারীদের ব্যবহৃত কৌশলের সঙ্গে মিল রয়েছে। পার্থক্য শুধু—এক্ষেত্রে একই পদ্ধতি ইতালির ভেতরেই প্রয়োগ করা হয়েছে।
কাতানিয়ার তদন্ত বিচারকের আদেশে তিন অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চতুর্থ অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।