সৌদিতে ৬টি হামলার দাবি হুথিদের, লক্ষ্যবস্তু আরামকো ও রিয়াদ বিমানবন্দর
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের দাবি ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর; রিয়াদমুখী দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিতের কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট
- আপলোড সময় : ০৮-১১-২০২৬ ০২:৪৮:১৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-১১-২০২৬ ০২:৪৮:১৫ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৭ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ, রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা এবং সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। শনিবার (৭ নভেম্বর) গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এ দাবি করেন। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হামলার জবাবে এসব অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে হুথিরা। তবে হামলায় লক্ষ্যবস্তুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষও হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এসব অভিযান চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, সৌদি বাহিনী ইয়েমেনের তাইজ ও বানি হাশিশ এলাকায় হামলা চালিয়ে বেসামরিক মানুষকে হতাহত করেছে। এর প্রতিশোধ হিসেবেই সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়েছে।
বিবৃতিতে হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আরামকোর তেল স্থাপনা, খুরাইস এলাকার তেল উৎপাদনকেন্দ্র এবং দাওয়াদমি এলাকার ৮ নম্বর পাম্পিং স্টেশনের কথা উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া নাজরানে সৌদি ন্যাশনাল গার্ডের একটি ক্যাম্প এবং সীমান্তসংলগ্ন কয়েকটি সামরিক অবস্থানেও হামলার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রোববার রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। পরে রিয়াদ ও সৌদির দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ছোড়া দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ভূপাতিত করার কথা জানানো হয়।
হুথি মুখপাত্রের দাবি, ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় সৌদি বাহিনী ১০৫টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সানা, আল-জাওফ, তাইজ, আমরান, হাজ্জাহ ও মারিবসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চল এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। এতে নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। তবে হতাহতের এসব তথ্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো দেশটির জ্বালানি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় দেশটির তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক অবকাঠামো নিরাপত্তার প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হুথিরা ইরানের সমর্থনপুষ্ট একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। অন্যদিকে, সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হলেও চলতি বছরের জুলাইয়ে তা ভেঙে যাওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই আবার তীব্র হয়েছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।