শিশুদের ফেসবুক আসক্তি বাড়ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানসিক বিকাশ
- আপলোড সময় : ১৭-০৫-২০২৬ ০১:৫১:৪০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-০৫-২০২৬ ০১:৫১:৪০ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৭৭ বার পঠিত
প্রতীকী ছবি- ( সংগৃহীত)
বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। মোবাইল ও ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ার কারণে অনেক শিশু অল্প বয়স থেকেই ফেসবুকে সময় কাটাচ্ছে। এই প্রবণতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
দীর্ঘ সময় ফেসবুক ব্যবহার করলে শিশুদের মনোযোগ কমে যায় এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হ্রাস পায়। অনেক ক্ষেত্রে হোমওয়ার্ক ও ক্লাসের প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে, যা তাদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শুধু শিক্ষাই নয়, শারীরিক স্বাস্থ্যেও এর প্রভাব পড়ছে। দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটার স্ক্রিনে থাকার কারণে চোখের সমস্যা, মাথাব্যথা এবং ঘুমের ব্যাঘাত দেখা দিচ্ছে। রাতে দেরি পর্যন্ত ফেসবুক ব্যবহার করার ফলে শিশুদের ঘুমের রুটিন নষ্ট হচ্ছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
ফেসবুকে অতিরিক্ত সক্রিয়তা শিশুদের মধ্যে তুলনামূলক মানসিক চাপ, একাকীত্ব এবং আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি করতে পারে। অন্যদের পোস্ট, ছবি ও জীবনধারার সঙ্গে নিজের তুলনা করতে গিয়ে অনেক শিশু মানসিকভাবে অস্থির হয়ে পড়ছে।
সামাজিক দিক থেকেও এর নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। বাস্তব জীবনের বন্ধুত্ব ও পারিবারিক সম্পর্কের চেয়ে ভার্চুয়াল জগতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কারণে অনেক শিশু পরিবার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এতে পারিবারিক যোগাযোগ ও বন্ধন দুর্বল হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।
সঠিক নির্দেশনা ছাড়া ফেসবুক ব্যবহার শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই অভিভাবকদের উচিত শিশুদের ফেসবুক ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করা এবং তাদেরকে খেলাধুলা, বই পড়া ও সৃজনশীল কাজে যুক্ত করা।
স্কুল পর্যায়ে ডিজিটাল সচেতনতা বাড়াতে হবে। প্রযুক্তিকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ না করে সঠিকভাবে ব্যবহারের শিক্ষা দেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।