এমপির গলায় রামদা ধরে সম্পত্তির দলিল নেওয়ার অভিযোগ
সুনামগঞ্জ-২ আসনের এমপির স্ত্রীসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা, সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ
- আপলোড সময় : ১১-০৮-২০২৬ ০৪:৪৬:৩৭ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১১-০৮-২০২৬ ০৪:৪৬:৩৭ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২২৭ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে গলায় রামদা ধরে বাড়িসহ বিভিন্ন সম্পত্তির দলিলে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার সৎ ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এমপির স্ত্রী পারভিন আক্তার দিরাই আদালতে মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) দিরাই আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ছোট ভাই ও দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী (মাসুক চৌধুরী), মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরীসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—দিরাই উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামের মৃত নাজমুল ইসলামের ছেলে আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামের আব্দুন নুর মিয়ার ছেলে ছয়ফুল চৌধুরী, তল বাউসী গ্রামের দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, কলিয়ার কাপনের নাজমুল ইসলামের ছেলে তাজুল ইসলাম এবং দিরাইয়ের নুরুল ইসলামের মেয়ে দলিল লেখক মমতাজ বেগম।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অসুস্থ নাছির উদ্দিন চৌধুরীর গলায় রামদা ধরে বাড়িসহ বিভিন্ন সম্পত্তির দলিলে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তার দুই স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে আসামিরা আগে থেকেই পরিকল্পনা করেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দুই কর্মচারীকে কর্মকর্তা পরিচয়ে নাছির চৌধুরীর কাছে নিয়ে গিয়ে দলিলে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তিনি এতে সম্মতি না দিলে গলায় রামদা ধরে স্বাক্ষর না করলে গলা কেটে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় নাছির চৌধুরীর অপর স্ত্রী শেলী চৌধুরী বাধা দিলে মিজানুর রহমান চৌধুরী তাকেও হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি মেঝেতে পড়ে যান বলেও মামলায় দাবি করা হয়।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, ওই সময় নাছির চৌধুরীর টঙ্গর এলাকার সমর্থক ওয়াকিব হাসান তাকে দেখতে বাড়িতে গেলে মঈন উদ্দিন চৌধুরীসহ অন্যরা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
এ ছাড়া ২০২২ সালের জানুয়ারিতে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর দিরাইয়ের বাড়িতে যাওয়ার পর পারভিন আক্তারকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও মামলায় করা হয়েছে।
দিরাই আদালতের বিচারক মো. জসিম মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের পেশকার মুহিত লাল চন্দ মিঠু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পারভিন আক্তারের পক্ষে মামলাটি দায়ের করেন আইনজীবী কাওছার আলম। তবে মামলায় আনা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।