কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ২২৪, নিখোঁজ ২৭০০
ধ্বংসস্তূপে আটকে বহু মানুষ, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা
- আপলোড সময় : ১১-০৮-২০২৬ ০৯:২৫:২৪ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১১-০৮-২০২৬ ০৯:২৫:২৪ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৫৬ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
কলম্বিয়ায় আঘাত হানা শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২৪ জনে পৌঁছেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এখনো প্রায় ২ হাজার ৭০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকে থাকায় প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে দেশটিতে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার গ্রামের কাছে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৩ কিলোমিটার গভীরে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী এই কম্পন বোগোটা ছাড়াও প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামা এবং দূরের ভেনিজুয়েলাতেও অনুভূত হয়েছে। মূল ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি শক্তিশালী পরাঘাত অনুভূত হয়। এতে বিভিন্ন অঞ্চলে শত শত ভবন ধসে পড়ে এবং অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।
কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত রিসারালদার রাজধানী পেরেইরায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আশপাশের শহর এবং ভালে দেল কাউকা অঞ্চলও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানিজালেস শহরেই প্রায় ১ হাজার ৬০০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে একটি ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালের মিনারও রয়েছে।
রয়টার্স জানায়, পেরেইরার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ৭২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেশী ভালে দেল কাউকার কালি শহরে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি চোকো প্রদেশে ১৩ জন এবং কালদাস অঞ্চলে দুজন মারা গেছেন। আন্তিওকিয়া অঞ্চলেও ৭৩ বছর বয়সী একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে স্থানীয় নাগরিকদের পরিচালিত কয়েকটি ওয়েবসাইটে সোমবার রাত পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ থাকার তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে নিখোঁজের এই সংখ্যা সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দলগুলো আরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। গত শুক্রবার দায়িত্ব নেওয়া নতুন সরকারের জন্য এই দুর্যোগ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।