টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে ভয়াবহ ভারি বৃষ্টির শঙ্কা, বেইজিংয়ে সতর্কতা জারি
টাইফুন ডলফিনের অবশিষ্ট প্রভাবে বেইজিংয়ে ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা। ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টির পূর্বাভাসে সতর্কতা জারি।
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১২-০৮-২০২৬ ১২:০৮:৩২ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১২-০৮-২০২৬ ১২:০৮:৩২ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২০০ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যায় চীনের রাজধানী বেইজিংসহ দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় এবং উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলো মারাত্মক বিপর্যে পড়েছে। ঝড়ের অবশিষ্টাংশ দেশের অভ্যন্তরে বড় পরিমাণের সামুদ্রিক আর্দ্রতা টেনে নিয়ে আসায় বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে দেখা দিয়েছে ভূমিধস ও নজিরবিহীন জলজট। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০৩
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ও নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো থেকে ইতোমধ্যে হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বেইজিংয়ের আশেপাশের নিম্নাঞ্চল থেকে বন্যাকবলিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য উদ্ধারকারী দলগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চীনের রাজধানী জুড়ে তৈরি হওয়া এই জরুরি অবস্থা সাম্প্রতিক বছরের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বেইজিংয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। কিছু কিছু জেলায় তা ২০০ মিলিমিটার ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। যা বেইজিংয়ের পুরো বছরের গড় বৃষ্টিপাতের তিন ভাগের এক ভাগের চেয়েও বেশি। শহরটিতে ইতিমধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কমলা সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না বের হতে কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলার অংশ হিসেবে চীনা কর্তৃপক্ষ বেইজিংয়ের শতাধিক পর্যটন কেন্দ্র ও ক্যাম্পসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এই এলাকাগুলো থেকে ১৩শ’ জনেরও বেশি পর্যটককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে পরিচর্যা কেন্দ্রগুলো থেকে পাঁচ হাজারেরও বেশি প্রবীণ ব্যক্তিকে সুরক্ষিত আশ্রয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।
টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বেইজিংয়ের গণপরিবহন ব্যবস্থা ও স্বাভাবিক সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২৫০টিরও বেশি বাস রুট পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ১০টি মেট্রো লাইনে ট্রেন চলাচলের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে সকালে কর্মস্থলে বের হওয়া সাধারণ মানুষ এক চরম ভোগান্তির শিকার হন।
চলতি বছর চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী এই টাইফুনটি পূর্বাঞ্চলীয় চচিয়াং প্রদেশে স্থলভাগ অতিক্রম করার পর কিছুটা দুর্বল হলেও এর প্রভাব কমেনি। প্রতিবেশী হপেই প্রদেশে পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ৬০০টিরও বেশি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে। জরুরি মুহূর্তে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামগুলোতে স্যাটেলাইট ফোন সরবরাহ করা হয়েছে।
এদিকে চীনের মধ্যাঞ্চলের হনান প্রদেশে পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয় রূপ ধারণ করায় কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ স্তরের লাল সতর্কতা জারি করেছে। সেখানে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ৩৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে, যার কারণে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও অনাবশ্যক বহিরাঙ্গন কর্মকাণ্ড স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জলবদ্ধ সড়কে আটকে পড়া যানবাহন থেকে অবিলম্বে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।