দেশের ৩০ বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম: ইউজিসি
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ তৈরিতে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য; অগ্রাধিকার পাচ্ছে আরবি, জাপানি, কোরীয় ও চীনা ভাষা
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ২০-০৮-২০২৬ ০৮:৪৮:০২ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২০-০৮-২০২৬ ০৮:৪৮:০২ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৪৫ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
দেশের ৩০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এর আওতায় সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা অথবা বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ও অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বহুভাষিক দক্ষতা বৃদ্ধি, তাদের আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলা এবং জাতীয় জনশক্তি উন্নয়নকে লক্ষ্য ধরে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নকারী এই প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত এক সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ এসব তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই কর্মসূচিতে আরবি, চীনা, জাপানি, কোরীয়, ফরাসি, জার্মান, স্প্যানিশ ও ইতালীয়—এই আটটি ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে আরবি, জাপানি, কোরীয়, চীনা ও ইতালীয় ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ভাষার কোর্স চালু হবে, তা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের চাহিদা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় জনবল এবং অবকাঠামোগত সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত করা হবে।
দেশের আট বিভাগের কোনো অঞ্চল যাতে এ কর্মসূচির আওতার বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, ভাষা নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় সম্পদ ও অবস্থান নির্ধারণের জন্য গঠিত কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে এবং এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাধিক ১৩টি ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে। বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা, পরিচালিত কোর্স, প্রশিক্ষক ও জনবল কাঠামো এবং অবকাঠামোগত সুবিধা পর্যালোচনার পাশাপাশি নতুন কেন্দ্র স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করবে কমিশন। বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অঞ্চলভেদে ভাষার চাহিদা চিহ্নিত করা হবে।
কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি দক্ষ প্রশিক্ষক দল গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভিজ্ঞ ভাষা বিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, কেন্দ্রগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো প্রণয়ন, আধুনিক ভাষা ল্যাব প্রতিষ্ঠা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারে সহযোগিতা করা হবে।
একই সঙ্গে এসব কেন্দ্র যাতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয় এবং শিক্ষার্থীরা যাতে সাশ্রয়ী ব্যয়ে মানসম্পন্ন শিক্ষা পায়, সে বিষয়ে বিশেষ নজরদারি রাখবে ইউজিসি। ইউজিসি চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে ওই সভায় কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল-মামুন, অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক মো. আসলাম হোসেন, অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ এবং ইউজিসি সচিবালয়ের সচিব মো. ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।