সুদানে নতুন করে বাস্তুচ্যুত ২ লাখের বেশি মানুষ
সংঘাত, ড্রোন হামলা ও বন্যায় আরও ভয়াবহ হচ্ছে সুদানের মানবিক সংকট
- আপলোড সময় : ২০-০৮-২০২৬ ০৩:৪৩:১৮ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২০-০৮-২০২৬ ০৩:৪৩:১৮ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৯৯ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
সুদানের কর্দোফান অঞ্চলে সংঘাত তীব্র হওয়ায় নতুন করে দুই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। একই সময়ে অঞ্চলটির গুরুত্বপূর্ণ শহর এল ওবেইদে পানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর সঙ্গে নর্থ দারফুরে মৌসুমি বন্যা যুক্ত হওয়ায় দেশটির মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।
বুধবার দেওয়া এক সতর্কবার্তায় আইওএম জানায়, এল ওবেইদ শহরকে অন্তর্ভুক্ত করা শেইকান জেলায় গত আট মাসে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২৫ শতাংশ বেড়েছে। সংঘর্ষ ও ড্রোন হামলার কারণে শহরটির বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে পানি সরবরাহের পাম্প, হাসপাতাল এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, সুদানে পরিবারগুলো সহিংসতা থেকে পালিয়ে পানি, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ হারাচ্ছে। এর সঙ্গে বন্যার প্রভাব যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি অনেক পরিবারের সামর্থ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ব্লু নাইল রাজ্যে প্রায় ৭৮ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়েছেন। পশ্চিম দারফুরে আগস্টের প্রথমার্ধে আরও প্রায় ১৮ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নর্থ দারফুরের তাওয়িলা এলাকায় ভারী বৃষ্টিতে প্রায় ১ হাজার ৩৫০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে এক হাজারের বেশি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
এল ওবেইদে বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। আল জাজিরার সাংবাদিক আলমিকদাদ আলরুহাইদ জানান, শহরটির দিকে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) ড্রোন দিয়ে সেনাবাহিনীর যানবাহন, তেলবাহী ট্যাংকার ও পণ্যবাহী ট্রাকে হামলা চালানো হয়েছে।
সুদানি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এল ওবেইদ দীর্ঘদিন ধরে অবরোধের মধ্যে রয়েছে। আরএসএফ শহরটির দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান ধরে রেখেছে এবং আশপাশের গ্রামগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান ওই সাংবাদিক। এতে বেসামরিক মানুষের জন্য খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সেবা পাওয়ার পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আনুমানিক ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৮৬ লাখ মানুষ। এছাড়া ৪২ লাখের বেশি মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। জাতিসংঘের হিসাবে, দেশটিতে প্রায় ৩ কোটি ৩৭ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
যুদ্ধের আগে এল ওবেইদের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার। সুদান ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত মানুষের আগমনে বর্তমানে শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ৩৪ লাখে পৌঁছেছে বলে ধারণা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ৩৯ হাজার শিশু শহরটিতে এসেছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।