বিয়ের প্রস্তাবে পাত্রীর ছবি আদান-প্রদান: কতটুকু বৈধ?
বিয়ের উদ্দেশ্যে পাত্রীর ছবি আদান-প্রদানের আগে ইসলামের নির্দেশনা জেনে নিন
- আপলোড সময় : ০৭-১১-২০২৬ ১১:১৩:১২ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-১১-২০২৬ ১১:১৩:১২ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৬৭ বার পঠিত
প্রতীকী ছবি- ( সংগৃহীত)
সংগৃহীত : খাইরুল ইসলাম
হানাফি ফিকহ ফেসবুক গ্রুপ থেকে
বর্তমানে বিয়ের বায়োডাটার সঙ্গে পাত্রীর ছবি সংযুক্ত করার প্রচলন ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে পর্দা, হায়া ও শরয়ী সীমারেখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
যদি পাত্রপক্ষ বিশেষভাবে পাত্রীর খোলা মুখের বা পর্দা ছাড়া ছবি দেখতে চায়, তাহলে শুধু পাত্রকে দেখানোর উদ্দেশ্যে সীমিতভাবে সেই ছবি দেখানোর অবকাশ রয়েছে। কারণ শরীয়তে বিয়ের উদ্দেশ্যে পাত্রের জন্য পাত্রীকে দেখার অনুমতি রয়েছে। তবে এ অনুমতি প্রয়োজন ও সীমারেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা জরুরি—
• প্রথমত, পাত্র নিজে ছবি দেখতে পারবে: কিন্তু পরিবাবের অন্য কোনো গায়রে মাহরাম পুরুষ, আত্মীয় বা বন্ধুবান্ধবদের সেই ছবি দেখানো জায়েয নয়। কারণ তারা সকলেই পাত্রীর জন্য গায়রে মাহরাম।
• দ্বিতীয়ত, যদি প্রবল আশঙ্কা থাকে যে, পাত্র ছবি দেখার পর তা অন্যদের দেখাবে, সংরক্ষণ করবে বা অপব্যবহার করবে, তাহলে এমন পাত্রপক্ষকে ছবি দেওয়া বৈধ হবে না। কারণ এতে পর্দার বিধান লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
• তৃতীয়ত, বিয়ের আলোচনা চূড়ান্ত না হলে বা কোনো কারণে বিয়ে ভেঙে গেলে ছবির অপব্যবহারের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই যদি আশঙ্কা থাকে যে, পাত্র পরে সেই ছবি নিজের কাছে রেখে দেবে, বারবার দেখবে বা অন্যকে দেখাবে, তাহলে শুরু থেকেই ছবি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
• চতুর্থত, যদি পাত্র ও তার পরিবার দ্বীনদার, আমানতদার ও শরয়ী সীমারেখার ব্যাপারে সচেতন হন এবং তাদের ব্যাপারে জোরালো সুধারণা থাকে, তাহলে সীমিতভাবে ছবি দেখানোর অবকাশ আছে। তবে সে ক্ষেত্রেও তাদের কাছ থেকে এ মর্মে প্রতিশ্রুতি নেওয়া উচিত যে, ছবি অন্য কাউকে দেখানো হবে না এবং দেখার পর তা ডিলিট বা মুছে ফেলা হবে।
সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো-সরাসরি সাক্ষাতের শরয়ী ব্যবস্থা করা অথবা প্রয়োজনে শুধু পাত্রকে সীমিতভাবে ছবি দেখিয়ে পরে তা ফিরিয়ে নেওয়া বা মুছে ফেলা। কারণ ছবি একবার ছড়িয়ে পড়লে তার অপব্যবহার ঠেকানো অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়।
অতএব, এ বিষয়ে আবেগ বা সামাজিক প্রচলনের অনুসরণ নয়; বরং পর্দা, হায়া ও দ্বীনি দায়িত্ববোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে সতর্ক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
বই: সতীত্ব ও পর্দা মুসলিম নারীর অহংকার, ২৭৫ পৃ.
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।