ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ , ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) , ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্র হতে দেওয়া যাবে না: প্রধানমন্ত্রী তাহসিফের মৃত্যুতে রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন দিশা অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালো ট্রাম্পের রিপাবলিকান নিরাপত্তার কারণে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রদর্শনী স্থগিত ২০২৬ সালে গতি পেয়েছে কোয়াড, এগিয়েছে তিন দেশের বৈঠক ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ২ হাজার ৬০ টাকা ২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন, সাধারণ ছুটি ১৫ দিন ছাদে সোলার প্যানেল বসালেই মিলবে কর ছাড় হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়ানোয় তাহসিফকে হত্যার সন্দেহ লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন ফের নাকচ কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ কমাল ডিএসসিসি বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের তুরাগ নদে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের লাশ উদ্ধার কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা মামলায় হানিফের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড ৪৬ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার, থাকছে ১৭ সদস্য খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলায় সোহাগের ৩ দিনের রিমান্ড রমজান সামনে রেখে বাড়ছে নিত্যপণ্যের আমদানি, কমেছে কয়েকটির দাম

হিজামা থেরাপি: প্রাচীন চিকিৎসার আধুনিক পথে

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২৮-০৮-২০২৫ ০১:২৬:৫০ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৮-০৮-২০২৫ ০১:২৬:৫০ অপরাহ্ন
  • ২ মিনিট পড়ার সময়
  • ১৪৪ বার পঠিত
হিজামা থেরাপি: প্রাচীন চিকিৎসার আধুনিক পথে ছবি: সংগৃহীত
হিজামা বা কাপিং থেরাপি হচ্ছে একদীর্ঘসময় ধরে ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতি, যা শরীর থেকে দূষিত রক্ত বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে স্বাস্থ্য উন্নত করতে সহায়তা করে। ইবনে সিনা ও জাকারিয়া আল রাযির মতো প্রখ্যাত চিকিৎসকরা তাদের গ্রন্থে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা তুলে ধরেছেন। আধুনিক চিকিৎসার পরিপূরক হিসেবে হিজামা আজও নানা ধরনের পেশীগত ব্যথা, রক্তসঞ্চালন উন্নয়ন ও অস্থিরতা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
 
হিজামার ইতিহাস হাজার বছরেরও বেশি পুরনো। বিভিন্ন প্রাচীন সভ্যতায় যেমন ইরান, মিশর, গ্রীস ও চীনে এই চিকিৎসা পদ্ধতি অনুশীলিত হয়েছে। বিশেষ করে ইবনে সিনার বিখ্যাত 'কানুন ফিল তিব্ব' এবং জাকারিয়া আল রাযির ‘আল-হাওয়ি’ চিকিৎসাবিদ্যার গ্রন্থে হিজামার উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে এটি শরীর থেকে দূষিত রক্ত নিষ্কাশন এবং প্রদাহ হ্রাস করার একটি কার্যকর উপায় হিসেবে উল্লিখিত। প্রাচীন মিশরের শিল্পকর্মেও হিজামা করানোর দৃশ্য পাওয়া যায়, যা এই পদ্ধতির প্রাচীনতা ও বিস্তারের প্রমাণ।
 
হিজামার তিন প্রধান ধরন রয়েছে— শুষ্ক, আর্দ্র ও গরম হিজামা। শুষ্ক হিজামায় কাপের ভিতরে ভ্যাকুয়াম তৈরি করে ত্বককে টেনে নেয়া হয়, যা রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। আর্দ্র হিজামায় একই প্রক্রিয়ার পর ত্বকে হালকা করে কাটা দিয়ে সামান্য পরিমাণ রক্ত বের করা হয়, যাতে শরীরের বিষাক্ততা দ্রুত কমে। গরম হিজামায় কাপের ভিতরের বাতাস আগুন দিয়ে গরম করে ভ্যাকুয়াম সৃষ্টি করা হয় এবং তা শরীরে বসানো হয়, যা ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির অংশ।
 
আধুনিক গবেষণা অনুসারে, হিজামা পেশী ব্যথা, জয়েন্টের সমস্যা যেমন আর্থ্রাইটিস, মাথাব্যথা ও মাইগ্রেন উপশমে উপকারী হতে পারে। এছাড়া রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি ও ক্লান্তি দূর করতেও সাহায্য করে। বিশেষ করে ক্রীড়াবিদরা তাৎক্ষণিক পুনরুদ্ধারের জন্য এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করে থাকেন। তবে, হিজামাকে আধুনিক চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং পরিপূরক চিকিৎসা হিসাবে গ্রহণ করতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে কার্যক্রম চালাতে হবে।
 
যদিও হিজামার উপকারিতা রয়েছে, এটি সবার জন্য নিরাপদ নয়। রক্ত জমাট বন্ধ হওয়ার রোগী, গর্ভবতী নারী, যাদের তীব্র রক্তাল্পতা আছে বা যারা সংক্রমিত চর্মরোগে ভুগছেন, তাদের জন্য এই চিকিৎসা নিষেধ। সঠিক স্বাস্থ্যবিধি এবং অভিজ্ঞ পেশাদার চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে হিজামা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভুল পদ্ধতি বা পরিচ্ছন্নতা না থাকা সংক্রমণ ও অঙ্গবিকৃতির কারণ হতে পারে।
 
বর্তমান সময়েও হিজামা থেরাপির স্থান বিদ্যমান, বিশেষ করে দীর্ঘ ঐতিহ্য ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে এর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সবসময়ই আধুনিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসা পদ্ধতির সাথে সমন্বয় করা গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।