ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জনবল সংকট: জেনারেল ব্রিকের সতর্কবার্তা
- আপলোড সময় : ০১-১২-২০২৫ ১০:৫৯:৩১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০১-১২-২০২৫ ১০:৫৯:৩১ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৫৯ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
ইসরাইলের সেনাবাহিনী বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মানবসম্পদ সংকটের মুখে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির রিজার্ভ জেনারেল ও সামরিক বিশ্লেষক ইৎজাক ব্রিক। তার মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেনা সদস্যদের ব্যাপক অনীহা ও আগ্রহহীনতার কারণে পুরো বাহিনী এখন তীব্র কর্মী ঘাটতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
দৈনিক মারিভ–এ প্রকাশিত এক মতামত কলামে ব্রিক জানান, হাজার হাজার অফিসার ও নন-কমিশনড অফিসার (এনসিও) সেনা সেবার ডাকে সাড়া দেননি বা নিজেদের চুক্তি নবায়ন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সামরিক সূত্রগুলোর বরাতে তিনি উল্লেখ করেন, গাজার চলমান যুদ্ধের দুই বছরে ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে অন্তত ৯২৩ জন নিহত এবং ৬,৩৯৯ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ২০ হাজার সেনা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেসে ভুগছেন, যা বাহিনীর সক্ষমতাকে আরও সংকটময় করে তুলছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কঠোর সেন্সরের কারণে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ কম দেখানো হয়, যাতে সেনাদের মনোবল ধরে রাখা যায়। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন—অনেক অভিজ্ঞ অফিসার দ্রুত অবসর চাইছেন এবং নতুন তরুণ সেনারা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে নারাজ। ব্রিকের দাবি, এর ফলে গোটা বাহিনীতে জনবল সংকট চরমে পৌঁছেছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, জনবল কমে যাওয়ায় সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ, অপারেশনাল সিস্টেম পরিচালনা এবং যুদ্ধ সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সেনাবাহিনী “সম্পূর্ণ অচল অবস্থায়” চলে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তার মতে, অতীতের ভুল সিদ্ধান্ত—বিশেষ করে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই এবং স্বল্পমেয়াদি সেবা মেয়াদ—পুরুষদের জন্য তিন বছর ও নারীদের জন্য দুই বছর—বর্তমান সংকটকে গভীর করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইলের গাজায় চালানো হামলায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।