এক ব্যক্তির নামে সিম আরও কমানোর সিদ্ধান্ত, গ্রাহক ও মোবাইল অপারেটরদের প্রতিক্রিয়া
- আপলোড সময় : ২৪-১২-২০২৫ ১১:১৩:২৩ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৪-১২-২০২৫ ১১:১৩:২৩ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৬১ বার পঠিত
নির্বাচনের আগে মোবাইল-ভিত্তিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত সিমকার্ডের সংখ্যা আরও কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ পাঁচটি সিম নিতে পারবেন। পাশাপাশি যাদের নামে বর্তমানে ছয় থেকে দশটি সিম রয়েছে, সেগুলোও ধাপে ধাপে পাঁচে নামিয়ে আনা হবে। এই সিদ্ধান্তে গ্রাহকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও মোবাইল অপারেটররা বরাবরের মতোই আপত্তি তুলেছেন।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গ্রাহকের অজান্তেই বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করে অতিরিক্ত সিম নিবন্ধন করছেন। এতে অবৈধভাবে সিম ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ছে। বিটিআরসি জানিয়েছে, এমনও দেখা গেছে—একজন গ্রাহক একদিনেই দুইটির বেশি সিম কিনছেন, যা স্বাভাবিক নয়।
এই প্রেক্ষাপটে গত জুলাই মাসে এক ব্যক্তির নামে সিম নেওয়ার সর্বোচ্চ সীমা ১৫ থেকে কমিয়ে ১০টি করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে সেই সীমা আরও কমিয়ে পাঁচে নামানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী জানান, ১ জানুয়ারি থেকে নতুন করে কোনো গ্রাহকের নামে পাঁচটির বেশি সিম নিবন্ধন করা হবে না।
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬ কোটি ৭৫ লাখ গ্রাহকের হাতে রয়েছে ১৮ কোটি ৮০ লাখের বেশি সক্রিয় সিম। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রাহকের নামে এক থেকে পাঁচটি সিম রয়েছে। তবে ছয় থেকে দশটি সিম রয়েছে এমন গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় এক কোটি ২০ লাখ। নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, যাদের নামে ১০টির বেশি সিম আছে, তারা সিম রিপ্লেস বা অন্যান্য সেবা নিতে গেলে ধাপে ধাপে সংখ্যা কমিয়ে পাঁচে নামাতে হবে।
এই সিদ্ধান্তে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে। কেউ প্রশ্ন তুলছেন, যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তারা ভবিষ্যতে কীভাবে সিম নিবন্ধন করবেন। আবার কেউ মনে করছেন, একটি পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে সিম থাকলে মোট প্রয়োজনীয়তা সহজেই পূরণ করা সম্ভব।
তবে মোবাইল অপারেটররা এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বাংলালিংকের চিফ করপোরেট ও রেগুলেটরি অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, শুধু সিমের সংখ্যা কমালেই অপরাধ কমে যাবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অফিসার তানভীর মোহাম্মদও মনে করেন, সিম সীমাবদ্ধতার বাইরে খাতের অন্যান্য কাঠামোগত সমস্যার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। রবির চিফ করপোরেট অফিসার সাহেদ আলম বলেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে অপারেটরদের ব্যবসায়িক টিকে থাকা কতটা সম্ভব, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
এদিকে বিটিআরসি জানিয়েছে, আইওটি (Internet of Things) ডিভাইস ব্যবহারের জন্য আলাদা নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে মোবাইল অপারেটরদের বিশেষ সিরিজের সিম বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হবে, যাতে শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।