ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ , ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) , ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্র হতে দেওয়া যাবে না: প্রধানমন্ত্রী তাহসিফের মৃত্যুতে রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন দিশা অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালো ট্রাম্পের রিপাবলিকান নিরাপত্তার কারণে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রদর্শনী স্থগিত ২০২৬ সালে গতি পেয়েছে কোয়াড, এগিয়েছে তিন দেশের বৈঠক ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ২ হাজার ৬০ টাকা ২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন, সাধারণ ছুটি ১৫ দিন ছাদে সোলার প্যানেল বসালেই মিলবে কর ছাড় হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়ানোয় তাহসিফকে হত্যার সন্দেহ লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন ফের নাকচ কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ কমাল ডিএসসিসি বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের তুরাগ নদে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের লাশ উদ্ধার কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা মামলায় হানিফের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড ৪৬ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার, থাকছে ১৭ সদস্য খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলায় সোহাগের ৩ দিনের রিমান্ড রমজান সামনে রেখে বাড়ছে নিত্যপণ্যের আমদানি, কমেছে কয়েকটির দাম

ইসলামে ভুল স্বীকার কেন নৈতিক শক্তির নিদর্শন

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ০৮-০২-২০২৬ ০৮:৫১:৫২ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৮-০২-২০২৬ ০৮:৫১:৫২ অপরাহ্ন
  • ২ মিনিট পড়ার সময়
  • ১০৮ বার পঠিত
ইসলামে ভুল স্বীকার কেন নৈতিক শক্তির নিদর্শন ছবি সংগৃহীত

ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষ ভুল করতেই পারে, তবে ভুল বুঝতে পেরে তা স্বীকার করা এবং সংশোধনের পথে ফেরা নৈতিক শক্তি ও ঈমানি চেতনার প্রকাশ। আলেমরা বলেন, নিজের ত্রুটি ঢাকার বদলে বিনয়ের সঙ্গে স্বীকার করা আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহভীতির পরিচয়, যা ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের জন্যই কল্যাণকর।
 

ইসলামি শিক্ষায় মানুষকে স্বভাবগতভাবে ভুলপ্রবণ বলা হয়েছে। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) উল্লেখ করেছেন, সব মানুষই ভুল করে; তবে উত্তম তারা, যারা ভুলের পর অনুতপ্ত হয় এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে (সুনানে তিরমিজি: ২৪৯৯)। আরও একটি হাদিসে বলা হয়েছে, মানুষ যদি গুনাহ না করত, তবে আল্লাহ এমন জাতি সৃষ্টি করতেন যারা গুনাহ করে তওবা করত এবং আল্লাহ তাদের ক্ষমা করতেন (মেশকাত: ২৩২৮)। এ বাণীগুলোতে তওবা ও ফিরে আসার মানসিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
 

ইসলামের ইতিহাসে ভুল স্বীকারের বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। সাহাবিদের জীবনে মতভেদ বা অনিচ্ছাকৃত ভুল হলে তারা দ্রুত ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে সম্পর্ক ঠিক করেছেন। একটি ঘটনায় হজরত আবু বকর (রা.) অনিচ্ছাকৃতভাবে হজরত ওমর (রা.)-কে কষ্ট দিলে তা বুঝতে পেরে ক্ষমা চান; এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (স.) তাকে কল্যাণে অগ্রগামী বলে উল্লেখ করেন (সহিহ বুখারি: ৪৬৪০)। এতে বোঝা যায়, ভুল স্বীকারকে ইসলামে মর্যাদাপূর্ণ আচরণ হিসেবে দেখা হয়।
 

পবিত্র কোরআনেও অপরাধ স্বীকার ও সংশোধনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সুরা তাওবা (১০২)-এ উল্লেখ আছে, যারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে এবং ভালো-মন্দ কাজের মিশ্র জীবন যাপন করে, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করতে পারেন। আল্লাহকে ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু বলা হয়েছে, যা বান্দাকে আশা ও সংশোধনের পথে আহ্বান জানায়।
 

ইসলাম শুধু ক্ষমা চাওয়াই নয়, ক্ষমা করাকেও বড় গুণ হিসেবে বিবেচনা করে। সুরা আলে ইমরান (১৩৪)-এ বলা হয়েছে, যারা ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। অর্থাৎ নৈতিক সমাজ গঠনে ভুল স্বীকার ও পারস্পরিক ক্ষমাশীলতা—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।
 

ইসলামি ঐতিহ্যে নবীদের জীবনেও ভুল উপলব্ধি করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার উদাহরণ পাওয়া যায়, যা বিনয় ও আত্মসমালোচনার শিক্ষা দেয়। ধর্মীয় আলোচকরা মনে করেন, ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সব স্তরে ভুল স্বীকার ও সংশোধনের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধা বাড়ে এবং নৈতিক পরিবেশ শক্তিশালী হয়।

 
 
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০৬

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।