বিশ্বের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা, রাশিয়ার দাবি ও বৈশ্বিক উদ্বেগ
- আপলোড সময় : ১৩-০৫-২০২৬ ১১:৪১:০৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৩-০৫-২০২৬ ১১:৪১:০৬ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৫৮ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
রাশিয়া তাদের নতুন প্রজন্মের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ‘সারমাত’-এর সফল পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছে, যা পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং অত্যন্ত দীর্ঘপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং জানিয়েছেন, শিগগিরই এটি সামরিক ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
মঙ্গলবার (১২ মে) পরিচালিত এ পরীক্ষার মাধ্যমে রাশিয়া তাদের কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, ‘সারমাত’ প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম, যা বর্তমানে অন্যান্য দেশের বিদ্যমান আইসিবিএম প্রযুক্তির তুলনায় অনেক বেশি। ক্ষেপণাস্ত্রটি একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
সফল পরীক্ষার পর পুতিন বলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পশ্চিমা সামরিক শক্তির যেকোনো সমমানের অস্ত্রের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন। তার ভাষায়, এটি এমন এক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তৈরি করবে, যা সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করবে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ ‘সারমাত’ কার্যকরভাবে সেনাবাহিনীতে মোতায়েন করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের পরীক্ষা বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোর কাছেও ১২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার আইসিবিএম রয়েছে, সেখানে রাশিয়ার এ নতুন প্রযুক্তি সামরিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
‘সারমাত’ ক্ষেপণাস্ত্রটি বহু বছর ধরে উন্নয়নাধীন ছিল এবং এর একাধিক পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পর এখন এটি রুশ সামরিক শক্তির অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পথে রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এ ধরনের অগ্রগতি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।