গাইবান্ধায় বন্যা ও বৃষ্টিতে কৃষকের ক্ষতি ৩ কোটি ৩৮ লাখ
১৫ দিনের বেশি পানিতে তলিয়ে ছিল কৃষিজমি, নষ্ট হয়েছে আমন বীজতলা, পাট ও সবজি
- আপলোড সময় : ২১-০৮-২০২৬ ১০:১৬:০০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২১-০৮-২০২৬ ১০:১৬:০০ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৪৮ বার পঠিত
ছবি—সংগৃহীত
গাইবান্ধায় কয়েক দফা ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যায় সাত উপজেলায় কৃষিখাতে প্রায় ৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। দীর্ঘ সময় জমিতে পানি জমে থাকায় রোপা আউশ, আমন বীজতলা, পাট, মরিচ, বাদাম, কলা, বেগুনসহ বিভিন্ন ফসল ও সবজি নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টি ও বন্যার পানি ১৫ দিনের বেশি স্থায়ী হওয়ায় জেলার প্রায় ১২৪ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী চর ও নিম্নাঞ্চলের অর্থকরী ফসলগুলোতে ক্ষতির পরিমাণ বেশি। দীর্ঘ সময় পানিতে তলিয়ে থাকায় অনেক জমির ফসল ও বীজতলা পচে নষ্ট হয়েছে।
পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন কৃষকরা। নতুন করে জমি প্রস্তুত করে নাবি জাতের রোপা আমন ও বিভিন্ন সবজি চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। তবে কৃষিনির্ভর এসব এলাকার অনেক কৃষকের আয়ের প্রধান উৎস ফসল নষ্ট হওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের কৃষক আলম মিয়া জানান, ‘সবজির গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত এলাকায় কয়েক দফা টানা বৃষ্টিতে সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় ফসল ও বীজতলা নষ্ট হয়েছে। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের ঘোড়াবান্ধা গ্রামের কৃষক মমিনুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির পানিতে বীজতলা ডুবে চারা নষ্ট হওয়ায় এখন বেশি দামে চারা কিনে জমিতে রোপণ করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে বলেও জানান তিনি।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ভারপ্রাপ্ত মো. আসাদুজ্জামান কৃষকদের ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ক্ষতি কাটিয়ে কৃষকদের পুনরায় উৎপাদনে ফেরাতে পর্যায়ক্রমে প্রণোদনাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।