আফগানিস্তানে ৭০ মিটার গভীর কূপে পড়া ৫ বছরের শিশু ২ দিন পর জীবিত উদ্ধার
আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশে ৭০ মিটার গভীর এক সরু কূপে পড়ে যাওয়া পাঁচ বছরের শিশু জাইনুল্লাহকে টানা দুই দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে; ১১ বছর বয়সী আরেক শিশুর সাহসিকতায় সফল হয় এই উদ্ধার অভিযান।
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০৪-১০-২০২৬ ০৩:১২:৪২ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৪-১০-২০২৬ ০৩:১২:৪২ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৯৪ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার প্রদেশে ৭০ মিটার গভীর একটি সরু কূপে পড়ে যাওয়া পাঁচ বছরের এক শিশুকে দুই দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জাইনুল্লাহ নামের শিশুটিকে উদ্ধারে ১১ বছর বয়সী আরেক শিশু হাজরত ওমর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে জাইনুল্লাহ একটি শুকিয়ে যাওয়া কূপে পড়ে যায়। কূপটির গভীরতা ছিল প্রায় ৭০ মিটার এবং ব্যাস মাত্র ৩০ সেন্টিমিটার। এত সরু হওয়ায় কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পক্ষে সেখানে নেমে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব ছিল না।
উদ্ধারকারীরা কূপের ভেতরে একটি ক্যামেরা নামিয়ে শিশুটির অবস্থান পর্যবেক্ষণ করেন। ক্যামেরার মাধ্যমে দেখা যায়, কূপের নিচে একটি কোণে বসে আছে জাইনুল্লাহ। তার পায়ের কাছে পানি জমে ছিল এবং মাথার ওপর দিয়ে পানি ঝরছিল। ঠান্ডা ও ভয়ে সে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।
শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য প্রথমে দড়ি নামানো হয়। কিন্তু বয়স কম হওয়ায় দড়ির সঙ্গে কীভাবে নিজেকে বাঁধতে হবে, তা বুঝতে পারছিল না জাইনুল্লাহ। তাকে উদ্ধারে তিন শিশুকেও কূপের ভেতরে নামানোর চেষ্টা করা হয়। তবে কূপটি এতটাই সরু ছিল যে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় তারা ওপরে উঠে আসতে বাধ্য হয়।
পরে উদ্ধারকারীরা ১১ বছর বয়সী হাজরত ওমরের সাহায্য নেন। এর আগেও একই ধরনের উদ্ধার অভিযানে সে কূপের ভেতরে নেমেছিল বলে জানা যায়। পরিবারের সম্মতি নিয়ে এবারও সে কূপে নামতে রাজি হয়।
প্রথমবার দড়িতে বেঁধে তাকে নামানোর সময় কূপের ভেতরে তার কাঁধ ও উরু আটকে যায়। ব্যথা পাওয়ায় সে চিৎকার করলে উদ্ধারকারীরা তাকে ওপরে তুলে আনেন। পরে দ্বিতীয়বার চেষ্টা করে সে কূপের তলদেশে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
এরপর হাজরত জাইনুল্লাহর কাছে পৌঁছে তাকে দড়ির সঙ্গে যুক্ত করতে সহায়তা করে। ওপরে থাকা উদ্ধারকারীরা ধীরে ধীরে দড়ি টেনে প্রথমে হাজরতকে এবং পরে জাইনুল্লাহকে কূপ থেকে বের করে আনেন। এ সময় ঘটনাস্থলে শত শত মানুষ অপেক্ষা করছিলেন।
আফগানিস্তানে পানির সংকটের কারণে কৃষিজমিতে বিপুলসংখ্যক গভীর ও সরু কূপ খনন করা হয়েছে। এসব কূপের অনেকগুলো পরে শুকিয়ে গেলেও সেগুলোর মুখ যথাযথভাবে বন্ধ করা হয়নি। ফলে সেগুলো শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।
জাইনুল্লাহ যে কূপে পড়ে গিয়েছিল, সেটি দুই বছর আগেই শুকিয়ে যায়। স্থানীয় কৃষকেরা কূপটির মুখ কাঠ ও মাটি দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন। সময়ের সঙ্গে কাঠ পচে যায় এবং মাটি আলগা হয়ে যাওয়ার পর কূপটি আবার বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে। খেলতে গিয়ে সেখানেই পড়ে যায় শিশুটি।
আফগানিস্তানে পানির সন্ধানে এ ধরনের গভীর কূপ খননের সংখ্যা বাড়তে থাকায় শিশুদের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। তথ্যসূত্র: বিবিসি
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।