শি জিনপিংয়ের উত্থানে চীনের উদ্ভাবনী শক্তিতে ভাটা পড়ার শঙ্কা
রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও নীতিনির্ধারণে কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব বাড়ায় উদ্যোক্তা ও গবেষকদের স্বাধীন উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বিশ্লেষকদের
- আপলোড সময় : ০৮-১১-২০২৬ ০৯:২০:১০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-১১-২০২৬ ০৯:২০:১০ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১১ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের হাতে ক্রমেই ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়া দেশটির অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতের উদ্ভাবনী সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির ভেতরে আনুগত্য ও নির্দেশ পালনের সংস্কৃতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় স্বাধীন চিন্তা, নতুন ধারণা এবং ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার প্রবণতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব গ্রহণের প্রায় ১৪ বছর পরও শি জিনপিংয়ের প্রধান মনোযোগ দল ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সর্বস্তরে আনুগত্য প্রতিষ্ঠার দিকে। তার নেতৃত্বে প্রশাসন ও দলীয় কাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার হয়েছে।
এ প্রবণতার প্রভাব পড়তে পারে চীনের নতুন অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, রোবোটিকস ও অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তিতে নতুন উদ্ভাবনের জন্য প্রয়োজন স্বাধীনভাবে চিন্তা করা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো এবং প্রয়োজনে প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
কিন্তু রাজনৈতিক আনুগত্যকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হলে কর্মকর্তা, গবেষক ও উদ্যোক্তারা ব্যর্থতার ঝুঁকি নিতে কিংবা নতুন উদ্যোগ গ্রহণে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
সম্প্রতি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকেও দলীয় শৃঙ্খলা ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি প্রশাসনের ওপর দলীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপের সমর্থকদের যুক্তি, এতে প্রশাসনিক অনিয়ম কমবে এবং সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকারিতা বাড়বে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
চীনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পাশাপাশি উদ্ভাবন এবং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা। কারণ প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও নতুন অর্থনীতির বিকাশে শুধু রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সৃজনশীলতা, স্বাধীন গবেষণা এবং নতুন ধারণা বাস্তবায়নের সুযোগ।
তাই বলা যায়, শি জিনপিংয়ের ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত করার নীতি দীর্ঘ মেয়াদে চীনের উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে সীমিত করে দিতে পারে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।