ঢাবিতে পরপর ৭টি ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৩
রোববার সন্ধ্যায় টিএসসি, নীলক্ষেতসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ; নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের
- আপলোড সময় : ০৮-১১-২০২৬ ০৯:২২:৫৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-১১-২০২৬ ০৯:২২:৫৬ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৮ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পর পর সাতটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে টিএসসি, মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ, ভিসি চত্বর, ইউল্যাব স্কুলের সামনে, জগন্নাথ হলের গেট এবং সিনেট ভবনের সামনে এসব বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে তাদের শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রদলের বিজয় একাত্তর হল শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদুর রহমান জানান, প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানের দিকে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এর কিছুক্ষণ পর মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন টিএসসি গেটে আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে। এসময় কয়েকজনকে দ্রুত পালিয়ে যেতে দেখা যায়। তাদের ধাওয়া করে দুজনকে আটক করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে জগন্নাথ হলের সামনে থেকে আরও একজনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- রেজাউল করিম (৪২), বাড়ি নাটোর; সোহেল রানা (৩৩), বাড়ি রাজশাহী এবং নাজমুস সাদ (৩৩), বাড়ি গোপালগঞ্জ। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের পরিচয় জানা গেছে।
আটকের পর তাদের মারধর করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় আটক এক যুবক নিজেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত দাবি করে বলেন, ‘আমি বিএনপি করি ভাই।’ নিজের পরিচয় যাচাই করতে উপস্থিত ব্যক্তিদের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধও জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল প্রাং বলেন, টিএসসিতে ককটেল বিস্ফোরণের পর শিক্ষার্থীরা দুজনকে আটক করে প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে সোপর্দ করেন। ইতিমধ্যে শাহবাগ থানা-পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার বিষয়ে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা শাহবাগ থানায় অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ৫ আগস্টের পর ক্যাম্পাসে যে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরে এসেছে, তা বিঘ্নিত করতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা চোরাগোপ্তা ককটেল হামলা চালিয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
নাহিদুজ্জামান শিপন আরও বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনগণ তিনজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। এ ধরনের হামলার বিরুদ্ধে তারা আগেও রাজপথে লড়াই করেছেন এবং ভবিষ্যতেও প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।