ঢাকা , সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬ , ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) , ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
রমজানে নিত্যপণ্যের এলসি খোলা সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিতে পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় সংস্কার বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্র হতে দেওয়া যাবে না: প্রধানমন্ত্রী তাহসিফের মৃত্যুতে রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন দিশা অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালো ট্রাম্পের রিপাবলিকান নিরাপত্তার কারণে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রদর্শনী স্থগিত ২০২৬ সালে গতি পেয়েছে কোয়াড, এগিয়েছে তিন দেশের বৈঠক ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ২ হাজার ৬০ টাকা ২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন, সাধারণ ছুটি ১৫ দিন ছাদে সোলার প্যানেল বসালেই মিলবে কর ছাড় হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়ানোয় তাহসিফকে হত্যার সন্দেহ লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন ফের নাকচ কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ কমাল ডিএসসিসি বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের তুরাগ নদে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের লাশ উদ্ধার কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা মামলায় হানিফের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড ৪৬ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার, থাকছে ১৭ সদস্য

মিয়ানমারের বিরল খনিজের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

প্রয়োজনে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সমঝোতা

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২৯-০৭-২০২৫ ১০:২৯:৫১ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৯-০৭-২০২৫ ১০:২৯:৫১ অপরাহ্ন
  • ৩ মিনিট পড়ার সময়
  • ৫২ বার পঠিত
মিয়ানমারের বিরল খনিজের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র কাচিন রাজ্যে অবস্থিত হেভি রেয়ার আর্থ বা বিরল খনিজের বড় অংশ বিদ্রোহী গোষ্ঠী কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি (কেআইএ)-এর নিয়ন্ত্রণে | ছবি: রয়টার্স
দুষ্প্রাপ্য খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে চীনের আধিপত্য ভাঙতে মিয়ানমারের দিকে নজর দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মিয়ানমারের কাচিন রাজ্যে অবস্থিত হেভি রেয়ার আর্থ বা বিরল খনিজের বড় অংশ বিদ্রোহী গোষ্ঠী কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি (কেআইএ)-এর নিয়ন্ত্রণে থাকায় ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব উঠেছে। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত চারজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
 
রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, প্রস্তাবগুলোর একটি হচ্ছে মিয়ানমারের শাসক জান্তা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে কাচিন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তিচুক্তির পথ সুগম করা। অন্য প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র জান্তা সরকারকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি কেআইএ’র সঙ্গে কাজ করে, তাদের সঙ্গে সরাসরি সমঝোতায় যাবে। তবে দুটো প্রস্তাবের মধ্যে মিয়ানমার জান্তার সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা কম। কারণ ২০২১ সালে মিয়ানমারের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে উৎখাত করার পর থেকে দেশটির সেনাশাসকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যায়নি যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এখন পর্যন্ত কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।
 
ট্রাম্প প্রশাসনের এই আলোচনাগুলো এখনো গোপন পর্যায়ে থাকলেও গত ১৭ জুলাই ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অফিসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনায় আসে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের সাবেক প্রধান অ্যাডাম কাস্টিলো, যিনি বর্তমানে মিয়ানমারে একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। কাস্টিলো বলেন, চীনের সোনার ডিম পাড়া হাঁস হয়ে থাকা কাচিনের খনিজ সম্পদ নিয়ে এখন কেআইএ নিজেরাই বিরক্ত। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
 
তবে তা বাস্তবায়নে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র। কাচিন অঞ্চল অত্যন্ত দুর্গম এবং পাহাড়ঘেরা—এমন একটি অঞ্চল যেখান থেকে খনিজ পণ্য ভারতে নিয়ে যাওয়ার জন্য মাত্র একটি রাস্তা রয়েছে, যেটি চীনের নজরদারিতে। সেখানে যেকোনো বহিরাগত পদক্ষেপে চীনের বাধা দেওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। সুইডিশ বিশ্লেষক বারটিল লিন্টনার বলেন, ‘চীনের নাকের ডগা দিয়ে খনিজ বের করে ভারতে পাঠানোটা শুধু কঠিন নয়, প্রায় অসম্ভব। এই এলাকা পাহাড়ঘেরা, রাস্তা প্রায় নেই, আর চীন নিশ্চুপ থাকবে না।’
 
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরেকটি প্রস্তাব এসেছে কাচিনের খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণে কোয়াডের সহযোগিতা ব্যবহার করার। এতে কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে চীনের প্রতিক্রিয়ার ভয়। অন্যদিকে, সু চির সাবেক উপদেষ্টা শন টারনেল দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন জান্তার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর সঙ্গে কাজ করে এবং সেই পথ ধরেই কাচিন অঞ্চল থেকে খনিজ আহরণে যুক্ত হয়।
 
বিশ্লেষকরা বলছেন, জান্তা সরকারও যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে আসা এই মনোযোগকে কাজে লাগাতে চাইবে। চলতি মাসে ট্রাম্প যখন মিয়ানমারের যুক্তরাষ্ট্রমুখী রফতানির ওপর ৪০ শতাংশ ট্যারিফ আরোপের হুমকি দেন, তখন সেই হুমকি জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংকে সরাসরি একটি চিঠিতে জানানো হয়। জবাবে তিনি ট্রাম্পের ‘শক্তিশালী নেতৃত্ব’-এর প্রশংসা করে শুল্ক কমানোর এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। এমনকি প্রয়োজন হলে আলোচনার জন্য প্রতিনিধি দল পাঠাতে প্রস্তুত বলেও জানান।
 
এরপরই জান্তাঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলেছেন, জান্তা প্রধানের ওই চিঠির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়া একদিকে মিয়ানমারে সেনাশাসনের বৈধতা দিতে পারে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের’ অবস্থানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স 

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।