এসএমই খাতকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে সরকারের চার বৈঠক: সিদ্ধান্ত একের পর এক বাস্তবায়িত
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০১-১১-২০২৫ ১০:৪৪:৪৮ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০১-১১-২০২৫ ১০:৪৪:৪৮ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৬৩ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তিতে রূপ দিতে সরকার পরপর চার দফা উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির সঙ্গে। এসব বৈঠকে উঠে এসেছে এসএমই উদ্যোক্তাদের সরাসরি অংশগ্রহণ, আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং রপ্তানিমুখী প্রণোদনা সহজীকরণের মতো একাধিক বাস্তব সিদ্ধান্ত।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে অংশ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা। আলোচনায় উদ্যোক্তাদের বাস্তব চাহিদা, আর্থিক জটিলতা ও নীতিগত সংস্কার নিয়ে বিস্তর পর্যালোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো—বিদেশি অর্ডার থেকে প্রাপ্ত অর্থের ১০ শতাংশ ব্যাংকে জমা রাখার বাধ্যবাধকতা শিথিলের উদ্যোগ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বছরে ন্যূনতম তিন হাজার মার্কিন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা কোটা বরাদ্দের প্রস্তাব।
বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠকে নতুন আর্থিক পণ্য নকশা, ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য বাণিজ্য লাইসেন্স ছাড়াই ক্ষুদ্রঋণ প্রদান, নীতিমালার কার্যকারিতা মূল্যায়ন ও সুদের হার পুনর্বিবেচনার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বৈঠকগুলোতে উদ্যোক্তাদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এসএমই খাতের কাঠামোগত সংস্কারের নীতি নির্ধারণ করা হয়।
বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল মানিব্যাগের মাধ্যমে অর্থপ্রাপ্তির নীতিমালা পরিবর্তন, অনলাইন বিক্রির অর্থ দ্রুত জমা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে এসএমই প্রতিবেদনের প্রচার, বিদেশি মুদ্রা সংরক্ষণ হিসাবের সীমা দ্বিগুণ করা, এবং স্থানীয় বীমা কোম্পানির আওতায় উন্মুক্ত হিসাবের মাধ্যমে রপ্তানি লেনদেনের অনুমোদন।
বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, “এসএমই খাত আমাদের অর্থনীতির প্রাণ। এই খাতের উদ্যোক্তাদের কণ্ঠ বড় শিল্পগোষ্ঠীর মতো শোনা না গেলেও, তাদের অবদান অপরিসীম। তাই সরকারের ভূমিকা হতে হবে সহায়ক—বাধা নয়। অর্থপ্রাপ্তি থেকে সরবরাহব্যবস্থা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সহজ করতে হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের এসএমই খাত কেবল স্থানীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেই নয়, রপ্তানি আয়ের নতুন উৎস হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।