ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি: 'আইন লঙ্ঘন হলে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে,' হুঁশিয়ারি বাণিজ্য উপদেষ্টার
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০৩-১২-২০২৫ ০৯:০৮:১০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৩-১২-২০২৫ ১০:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৬৫ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
আইন লঙ্ঘন করে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হলে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দাম বাড়ানোর আগে ব্যবসায়ীরা সরকারের কোনো সম্মতি নেয়নি এবং তাদের এই সম্মিলিত কর্মকাণ্ডের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। বুধবার (০৩ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা এই কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেন। দাম বৃদ্ধির যৌক্তিক কারণ খুঁজে না পাওয়ায় সরকার এখন আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন নিশ্চিত করেন যে, ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা তেলের দাম বাড়ানোর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বা সরকারের কোনো পক্ষের কাছ থেকে কোনো প্রকার সম্মতি বা অনুমতি নেননি। তিনি মন্তব্য করেন, সকল কোম্পানি সামগ্রিকভাবে একত্রিত হয়ে দাম বাড়িয়েছে, যা আইনিভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
উপদেষ্টা বলেন, "আমাদের কোনো সম্মতি নেয়নি। আমাদের সঙ্গে তাদের কোনো কথা হয়নি। তারা যে কর্মকাণ্ডটি করেছেন, তার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।"
সরকারের সাম্প্রতিক তেল ক্রয়ের উদাহরণ টেনে বাণিজ্য উপদেষ্টা বাজারে দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানান, গতকালও (০২ ডিসেম্বর) ক্রয় কমিটিতে সরকার ৫০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল এবং এক কোটি লিটার রাইসব্রান তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই তেল বাজারে বর্তমানে যে দামে বিক্রি হচ্ছে, তার চেয়ে কুড়ি টাকা কমে কেনা হবে।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, "৫০ লাখ লিটার তেল যদি আমরা দরপত্রের মাধ্যমে কম-দামে কিনতে পারি, তাহলে বাজারে কেন এতো বেশি দামে বিক্রি করা হবে? এর কোনো যৌক্তিক কারণ আমি দেখছি না।"
মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াতে পারে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, "নিয়ন্ত্রণ নিশ্চয়ই আছে। নিয়ন্ত্রণ আছে কি নেই, সেটা আমাদের পদক্ষেপের মাধ্যমে জানতে পারবেন।"
আইন লঙ্ঘন করে থাকলে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, "নিশ্চয়ই নেব। কেন নেব না? আইনগতভাবে যে ব্যবস্থাগুলো আছে সবগুলোই নেব।" তবে তিনি ব্যবসায়ীদের কোনো প্রকার ক্ষমতাধর হওয়া সংক্রান্ত 'উত্তেজক ও ধারণাপ্রসূত' প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা যোগ করেন, যদি তেলের দাম বাড়ানোর যৌক্তিক কোনো কারণ থাকে, তবে সরকার আনন্দের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত, কারণ তারা সরবরাহ ব্যবস্থা গতিশীল রাখতে চায়। তবে ব্যবসায়ীদের অ্যাসোসিয়েশনের যে দাবি, দাম বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয় বা ট্যারিফ কমিশনের অনুমতির প্রয়োজন নেই—তা সরকার একনলেজ করে না বলেও জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।