ঢাকা মেডিকেল মর্গে ‘প্যাকেজ’ বাণিজ্যের অভিযোগ, স্বজনদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ
- আপলোড সময় : ০৮-০৭-২০২৬ ১১:৫৫:৩২ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-০৭-২০২৬ ১১:৫৫:৩২ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১১৯ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তকে কেন্দ্র করে ‘প্যাকেজ সিস্টেমে’ অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে স্বজনদের কাছ থেকে বিভিন্ন সেবার নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সরকারি প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
প্রতিদিন অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মরদেহ আসে এই মর্গে। আইন অনুযায়ী ময়নাতদন্ত একটি সরকারি কার্যক্রম এবং এ প্রক্রিয়ায় কোনো অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে অভিযোগ রয়েছে, মর্গকে কেন্দ্র করে গোসল করানো, কাফন, কফিন এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার নামে একটি ‘প্যাকেজ’ চালু রয়েছে, যার মূল্য ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয় এবং দরকষাকষির মাধ্যমে তা ১৫-১৬ হাজার টাকায় নেমে আসে।
এ অনিয়মের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেকান্দার নামের এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে এ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে, যিনি একসময় মর্গের ইনচার্জ ছিলেন। বর্তমানে তার দুই ভাই বাবুল ও রামু সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মী হিসেবে সেখানে কাজ করছেন। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন বহিরাগত যুক্ত হয়ে স্বজনদের ‘সহযোগিতা’ করার কথা বলে অর্থ আদায় করছেন বলে অভিযোগ।
স্বজনদের জন্য পরিস্থিতি হয়ে উঠছে দ্বিমুখী সংকট—একদিকে প্রিয়জন হারানোর শোক, অন্যদিকে মর্গে এসে আর্থিক চাপের মুখোমুখি হওয়া। এতে অনেকেই অসহায় হয়ে পড়ছেন।
তবে এ ধরনের অভিযোগ সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান। তার মতে, ময়নাতদন্তের জন্য কোনো অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই এবং পুরো প্রক্রিয়াটি পুলিশের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হওয়ার কথা।
একই ধরনের অভিযোগ রাজধানীর সলিমুল্লাহ মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ নিয়েও রয়েছে। সেখানে আউটসোর্সিং কর্মীদের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্টরা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনাগ্রহী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ময়নাতদন্ত একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া, যা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়ক। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেন শুধু ভুক্তভোগীদের হয়রানিই বাড়ায় না, বরং বিচার প্রক্রিয়াকেও বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।