৫১ লাখ মানুষকে দেওয়া হচ্ছে কলেরার টিকা
১ বছর ও তার বেশি বয়সীরা পাবেন টিকা, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য নয়; দুই ডোজ নেওয়া বাধ্যতামূলক
- আপলোড সময় : ২২-০৮-২০২৬ ০৩:৩৭:৪০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২২-০৮-২০২৬ ০৩:৩৭:৪০ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৫৪ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
দেশের কলেরা সংক্রমণের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আজ শনিবার (২২ আগস্ট) থেকে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা বা প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন (পিওসিভি) দেওয়া শুরু হয়েছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোট ১৪টি অগ্রাধিকার এলাকায় ১ বছর ও তার বেশি বয়সী প্রায় ৫১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে দুই ডোজ টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, অন্তঃসত্ত্বা নারী ছাড়া ১ বছর বা তার বেশি বয়সী সবাই এই টিকা নিতে পারবেন। প্রথম ডোজ দেওয়া হচ্ছে ২২ আগস্ট থেকে এবং দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে। কলেরা থেকে সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিদের দুই ডোজই গ্রহণ করতে হবে।
কর্মসূচির আওতায় মুন্সীগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল উপজেলায় টিকা দেওয়া হচ্ছে। ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের তেজগাঁও, খিলক্ষেত ও শেরেবাংলা নগর থানা এলাকাও রয়েছে এ কর্মসূচির আওতায়।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা। গ্যাভি, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), আইএফআরসি, আইসিডিডিআর,বি এবং অন্যান্য উন্নয়ন ও বাস্তবায়নকারী অংশীদার এতে সহযোগিতা করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচিতে প্রায় ৫১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে দুই ডোজ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং ১ কোটির বেশি ডোজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উপযুক্ত নাগরিকদের টিকা নিতে আগে নিবন্ধন করতে হবে। এজন্য https://vaxepi.gov.bd গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। নিবন্ধনের মাধ্যমে ন্যাশনাল হেলথ আইডি তৈরির সুযোগও রয়েছে, যা ভবিষ্যতে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে কাজে লাগতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের যেসব এলাকা কলেরার উচ্চ ও অত্যন্ত উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, সেসব এলাকায় রোগ ও মৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। রোগের ঝুঁকি বিবেচনায় আক্রান্তের প্রবণতা, জনসংখ্যার ঘনত্ব, সংক্রমণের আশঙ্কা ও অন্যান্য বিষয় বিশ্লেষণ করে অগ্রাধিকার এলাকাগুলো নির্বাচন করা হয়েছে।
তবে শুধু টিকা নিলেই কলেরা প্রতিরোধ পুরোপুরি নিশ্চিত হয় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্নতা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাকে কলেরা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাই লক্ষ্যভুক্ত এলাকার বাসিন্দাদের কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে নির্ধারিত সময়ে দুই ডোজ টিকা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।