ঢাকা , সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬ , ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) , ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
রমজানে নিত্যপণ্যের এলসি খোলা সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিতে পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় সংস্কার বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্র হতে দেওয়া যাবে না: প্রধানমন্ত্রী তাহসিফের মৃত্যুতে রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন দিশা অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালো ট্রাম্পের রিপাবলিকান নিরাপত্তার কারণে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রদর্শনী স্থগিত ২০২৬ সালে গতি পেয়েছে কোয়াড, এগিয়েছে তিন দেশের বৈঠক ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ২ হাজার ৬০ টাকা ২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন, সাধারণ ছুটি ১৫ দিন ছাদে সোলার প্যানেল বসালেই মিলবে কর ছাড় হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়ানোয় তাহসিফকে হত্যার সন্দেহ লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন ফের নাকচ কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ কমাল ডিএসসিসি বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের তুরাগ নদে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের লাশ উদ্ধার কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা মামলায় হানিফের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড ৪৬ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার, থাকছে ১৭ সদস্য

৩০ বছর পর ফিরছে অরেঞ্জ অর্ডারের মার্চ, উত্তপ্ত উত্তর আয়ারল্যান্ড

গারভ্যাগি রোডে প্রায় তিন দশক পর অরেঞ্জ অর্ডারের মিছিলের অনুমতি; আদালতের পাল্টাপাল্টি সিদ্ধান্তে বাড়ছে উত্তেজনা

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২৭-০৯-২০২৬ ১০:৩৩:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৭-০৯-২০২৬ ১০:৩৩:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • ২ মিনিট পড়ার সময়
  • ৯৬ বার পঠিত
৩০ বছর পর ফিরছে অরেঞ্জ অর্ডারের মার্চ, উত্তপ্ত উত্তর আয়ারল্যান্ড ছবি: সংগৃহীত
উত্তর আয়ারল্যান্ডের পোর্টাডাউনে একটি ক্যাথলিক অধ্যুষিত এলাকার মধ্য দিয়ে প্রোটেস্ট্যান্ট সংগঠন অরেঞ্জ অর্ডারের মার্চ করার পথ খুলে দিয়েছে আদালত। প্রায় তিন দশক ধরে নিষিদ্ধ থাকা বিতর্কিত এই পথে রোববার মার্চ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
 
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পোর্টাডাউনের গারভাঘি রোড দিয়ে অরেঞ্জ অর্ডারের বার্ষিক ড্রামক্রি প্যারেড যাওয়ার কথা। শুক্রবার উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্যারেডস কমিশন মার্চের অনুমতি দিয়েছিল। তবে শনিবার স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেদনের পর হাইকোর্ট সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরে আপিল আদালত সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় এবং হাইকোর্টও নতুন আবেদন খারিজ করে দেয়।
 
গারভাঘি রোডটি পোর্টাডাউনের মূলত ক্যাথলিক ও জাতীয়তাবাদী অধ্যুষিত একটি এলাকা। শহরটি তুলনামূলকভাবে প্রোটেস্ট্যান্ট-অধ্যুষিত। এই সড়ক দিয়ে অরেঞ্জ অর্ডারের মার্চ ১৯৯৮ সাল থেকে নিষিদ্ধ ছিল। এর আগে ১৯৯০-এর দশকে মার্চের পথ নিয়ে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা উত্তর আয়ারল্যান্ডের দীর্ঘ সাম্প্রদায়িক সংঘাতের অন্যতম বড় প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
 
অরেঞ্জ অর্ডার একটি প্রোটেস্ট্যান্ট সংগঠন, যার ঐতিহাসিকভাবে ব্রিটিশপন্থী ও ইউনিয়নপন্থী পরিচিতি রয়েছে। অন্যদিকে গারভাঘি রোডের বাসিন্দাদের বড় অংশ আইরিশ জাতীয়তাবাদী ও ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের। ফলে মার্চের এই পথ নিয়ে বিরোধ শুধু একটি স্থানীয় মিছিলের বিষয় নয়; এটি উত্তর আয়ারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক বিভাজনের সঙ্গেও যুক্ত।
 
এবারের মার্চের ক্ষেত্রে প্যারেডস কমিশন বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে। সর্বোচ্চ ৩৫ জন অরেঞ্জ অর্ডার সদস্য মার্চে অংশ নিতে পারবেন। তাদের সকাল ৮টার মধ্যে যাত্রা শুরু করে সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে কর্মসূচি শেষ করতে হবে। কোনো সমর্থক বা ব্যান্ডকে মার্চের সঙ্গে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
 
তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন গারভাঘি রোডের বাসিন্দারা। তাঁদের পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল মার্চটি ঠেকানোর জন্য। শনিবার হাইকোর্টের শুনানিতে বিচারক প্যাট্রিসিয়া স্মাইথ সাময়িকভাবে মার্চ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে অরেঞ্জ অর্ডারের পক্ষ থেকে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়।
 
১৯৯৮ সালে গুড ফ্রাইডে চুক্তির মাধ্যমে উত্তর আয়ারল্যান্ডের কয়েক দশকের ‘দ্য ট্রাবলস’ নামে পরিচিত সহিংস সংঘাত অনেকাংশে অবসানের পথে যায়। এর আগে অরেঞ্জ অর্ডারের মার্চ ঘিরে নিয়মিত সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা যেত। গারভাঘি রোডের মার্চ সেই সংঘাতের অন্যতম পরিচিত প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
 
রোববার সকালে মার্চকে কেন্দ্র করে গারভাঘি রোডে বিক্ষোভকারীরাও জড়ো হন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও'নিল এবং সিন ফেইনের নেতা মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডকেও দেখা গেছে। অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির এমপি কার্লা লকহার্ট বলেছেন, সিন ফেইন ও অন্যান্য জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকদের আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া উচিত।
 
আদালতের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উত্তর আয়ারল্যান্ডে নতুন করে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে এবারের মার্চের ওপর আরোপিত সীমিত অংশগ্রহণ, সময় ও সংগীতসংক্রান্ত বিধিনিষেধের লক্ষ্য হলো কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রিত রাখা এবং সংঘাতের ঝুঁকি কমানো।

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০৩

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।