ইরানে বিক্ষোভে হামলার অভিযোগ: আইএস জঙ্গি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল, দাবি তেহরানের
- আপলোড সময় : ১৪-০১-২০২৬ ১২:২৫:৩৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৪-০১-২০২৬ ১২:২৫:৩৮ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪৭ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
ইরানে চলমান বিক্ষোভে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে সহিংস হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিপুল সংখ্যক আইএস জঙ্গিকে দেশটিতে পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এমন দাবি করেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আব্দোরহিম মুসাভি।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, মুসাভি বলেন—ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ১২ দিনের সংঘাতে ব্যর্থ হয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব সরাসরি যুদ্ধের বদলে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করছে। তার দাবি, ভাড়াটে বাহিনী হিসেবে আইএস সদস্যদের ইরানে পাঠানো হয়েছে, যাতে তারা বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে সাধারণ জনগণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে পারে।
ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সংযম দেখাচ্ছে উল্লেখ করে মুসাভি বলেন, আইএসআইএসসহ বিদেশি সন্ত্রাসী ও এজেন্টদের কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।
এদিকে ইরানের গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় চালানো অভিযানে একাধিক বাড়ি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। তাসনিমের বরাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, চলমান সহিংসতা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের অংশ হিসেবেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।
পৃথক প্রতিবেদনে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাহেদানে ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’র কয়েকজন সদস্যকে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, তারা ইরানের পূর্ব সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে মার্কিন তৈরি অস্ত্র ও বিস্ফোরক বহন করছিল এবং বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল।
তবে ইরানের এসব অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এর আগেও ইরানি নেতারা বারবার অভিযোগ করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘সশস্ত্র দাঙ্গাবাজদের’ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমর্থন দিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও ইরানি রিয়ালের নজিরবিহীন দরপতনের পর গত ২৮ জানুয়ারি তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা সহিংস রূপ নেয়। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, গত দুই সপ্তাহে চলমান এই অস্থিরতায় নিরাপত্তা কর্মীসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।