মোদির ইউরোপ সফর: ১৭ চুক্তির আড়ালে মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক
- আপলোড সময় : ২১-০৫-২০২৬ ১১:১৫:২৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২১-০৫-২০২৬ ১১:১৫:২৬ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৫৪ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপ সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা খাতে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি অর্জন করলেও, সফরজুড়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন এবং সমালোচনা থামেনি। বিশেষ করে নেদারল্যান্ডস ও নরওয়েতে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ইস্যু বারবার আলোচনায় উঠে আসে, যার সরাসরি জবাব এড়িয়ে গিয়ে দিল্লি সমালোচকদের ‘অজ্ঞ’ বলে মন্তব্য করে।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ এবং দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি হওয়ায় ইউরোপের দেশগুলো ভারতের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী। সেই ধারাবাহিকতায় নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য খাতে মোট ১৭টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা সফরের একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে এই অর্থনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি সফরের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। নেদারল্যান্ডসের গণমাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এমনকি বৈঠকের আগেই ডাচ প্রধানমন্ত্রী ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি উত্তর না দিয়ে দাবি করে, সমালোচকরা ভারতের বাস্তবতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন না। একই ধরণের অবস্থান নরওয়ে সফরেও দেখা যায়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদি সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ দেননি। পরে আলাদা ব্রিফিংয়ে ভারতের পক্ষ থেকে দেশের দীর্ঘ ইতিহাস ও কোভিড-১৯ সময়ের মানবিক সহায়তার উদাহরণ তুলে ধরে সমালোচনাকে ‘অজ্ঞতা’ এবং ‘এনজিও-প্রভাবিত’ বলে অভিহিত করা হয়।
এই অবস্থায় মূল প্রশ্নগুলোর সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় এক ইউরোপীয় সাংবাদিক অসন্তোষ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন মাঝপথে ত্যাগ করেন, যা বিষয়টির প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের অস্বস্তি আরও স্পষ্ট করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও মানবাধিকার প্রশ্ন একে অপরের পরিপূরক। ফলে কেবল অর্থনৈতিক সাফল্য দিয়ে মানবাধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগ আড়াল করা কঠিন। বরং এই সফর ভারতের বৈশ্বিক ভাবমূর্তিতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।