আফগানিস্তানে নতুন আইনে বাল্যবিবাহ নিয়ে উদ্বেগ: তালেবান সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা
- আপলোড সময় : ২৩-০৫-২০২৬ ০২:১০:২০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৩-০৫-২০২৬ ০২:১০:২০ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৮৪ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তানে তালেবান প্রশাসনের নতুন বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত আইনের ফলে বাল্যবিবাহ পরোক্ষভাবে বৈধতা পাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল। এই আইনের বিভিন্ন ধারা নারী অধিকারকে সীমিত করছে এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়েকে নিরুৎসাহিত করার পরিবর্তে উল্টোভাবে স্বীকৃতি দিচ্ছে বলে সমালোচনা উঠেছে।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দেশটিতে নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। মেয়েদের ষষ্ঠ শ্রেণির পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং কর্মক্ষেত্রেও অংশগ্রহণ সীমিত করা হয়। ফলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে বাল্যবিবাহের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে।
সাম্প্রতিক এক বেসরকারি জরিপে দেখা গেছে, আফগানিস্তানে প্রায় ৭০ শতাংশ মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে ১৮ বছরের নিচে রয়েছে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো নাবালিকা মেয়ের বিয়ে হলে সে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর পর চাইলে সেই বিয়ে বাতিলের আবেদন করতে পারবে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই বিধান বাস্তবে শিশুবয়সে বিয়ে হওয়ার পথকে আইনি স্বীকৃতি দেয়।
আইনের আরেকটি বিতর্কিত দিক হলো—কোনো মেয়ে বয়ঃসন্ধির পর বিয়ের বিরুদ্ধে আপত্তি না জানালে তার নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে গণ্য করা হবে। এতে করে সামাজিক চাপ, ভয় বা পারিবারিক প্রভাবের কারণে অনেকেই প্রতিবাদ করতে না পারলেও আইনগতভাবে বিয়ে বহাল থাকবে।
এছাড়া নতুন বিধানে নারীদের জন্য বিবাহবিচ্ছেদের পথ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। স্বামীর আপত্তি থাকলে বিচ্ছেদ পাওয়া প্রায় অসম্ভব, এমনকি স্বামী ভরণপোষণ না দিলেও তা বিচ্ছেদের গ্রহণযোগ্য কারণ হিসেবে বিবেচিত হবে না। এর ফলে নির্যাতিত বা পরিত্যক্ত নারীদের আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।
এর আগে প্রণীত আইন অনুযায়ী, স্ত্রীর ওপর সহিংসতার ক্ষেত্রেও শাস্তি তুলনামূলকভাবে লঘু হওয়ায় সমালোচনা রয়েছে। পাশাপাশি নারী আইনজীবীদের আদালত থেকে বাদ দেওয়ার ফলে বিচারপ্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ কমে গেছে, যা সামগ্রিকভাবে তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগকে আরও সংকুচিত করেছে।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এই আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও তালেবান প্রশাসন তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের অভ্যন্তরীণ নীতিতে বাইরের সমালোচনার ভিত্তিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।