ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ , ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) , ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
রমজানে নিত্যপণ্যের এলসি খোলা সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিতে পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় সংস্কার বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্র হতে দেওয়া যাবে না: প্রধানমন্ত্রী তাহসিফের মৃত্যুতে রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন দিশা অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালো ট্রাম্পের রিপাবলিকান নিরাপত্তার কারণে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রদর্শনী স্থগিত ২০২৬ সালে গতি পেয়েছে কোয়াড, এগিয়েছে তিন দেশের বৈঠক ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ২ হাজার ৬০ টাকা ২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন, সাধারণ ছুটি ১৫ দিন ছাদে সোলার প্যানেল বসালেই মিলবে কর ছাড় হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়ানোয় তাহসিফকে হত্যার সন্দেহ লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন ফের নাকচ কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ কমাল ডিএসসিসি বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের তুরাগ নদে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের লাশ উদ্ধার কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা মামলায় হানিফের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড ৪৬ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার, থাকছে ১৭ সদস্য

ফিলিপিন্সে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত ৩২, আহত শতাধিক; ক্ষতিগ্রস্ত মিন্দানাও

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ০৯-০৬-২০২৬ ১২:০১:২৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৯-০৬-২০২৬ ১২:০১:২৯ পূর্বাহ্ন
  • ৩ মিনিট পড়ার সময়
  • ১৩৬ বার পঠিত
ফিলিপিন্সে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত ৩২, আহত শতাধিক; ক্ষতিগ্রস্ত মিন্দানাও ছবি সংগৃহীত

 

ফিলিপিন্সের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩২ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আরও ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পে বহু ভবন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে এখনো তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।
 

সোমবার (৮ জুন) ভোরে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল সারাঙ্গানি প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। কম্পনের প্রভাব পুরো মিন্দানাও অঞ্চলে অনুভূত হয়। এমনকি প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়ার মানাদো শহরেও ভূমিকম্পের কম্পন টের পাওয়া যায়। ভূমিকম্পের পরপরই সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর কয়েক ঘণ্টা পর তা প্রত্যাহার করা হয়।
 

স্থানীয় নাগরিক সুরক্ষা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের অধিকাংশ ভবন ধস ও ভূমিধসের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সম্ভাব্য আফটারশকের ঝুঁকি থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশ না করার জন্য জনগণকে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এবং যাচাইকৃত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে একটি জোলিবি রেস্তোরাঁর উপরের অংশ ধসে পড়ে। এছাড়া জেনারেল সান্তোস সিটির একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সের বাইরের কংক্রিটের দেয়াল ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে।
 

ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল জেনারেল সান্তোস সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। অগভীর গভীরতার কারণে কম্পনের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 

ভূমিকম্পের পর দক্ষিণ ফিলিপিন্স, উত্তর ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার সাবাহ অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর বড় ধরনের সুনামির আশঙ্কা না থাকায় সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।
 

ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকার জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সচল করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার মিন্দানাও অঞ্চলের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
 

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর দিনেই এ দুর্যোগ আঘাত হানায় শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। দাভাও অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক শিক্ষার্থী নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে যায়। ফিলিপিন্স রেড ক্রস জানিয়েছে, ভূমিকম্পজনিত মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
 

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মার্কোস। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ও শিশুদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপিন্স ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম। ফলে দেশটিতে নিয়মিতই ভূমিকম্প ও অন্যান্য ভূ-প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটে থাকে।

 


নিউজটি আপডেট করেছেন : Kaler Diganta

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।