লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নারী-শিশুসহ নিহত ১১, একই পরিবারের ৭ জন
আনসার ও দেইর আল-জাহরানীতে ভয়াবহ হামলা, বেসামরিক প্রাণহানির নিন্দা জানিয়ে উত্তেজনা বন্ধের আহ্বান লেবানন প্রধানমন্ত্রীর
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ১১:১৩:৪৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ১১:১৩:৪৭ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১০৭ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোররাত থেকে চালানো এই হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আনসার ও দেইর আল-জাহরানি শহর। এই নৃশংসতায় তিন শিশু ও দুই নারীসহ একই পরিবারের সাতজন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবানন কর্তৃপক্ষ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম জানিয়েছেন, বৈরুত থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে আনসার শহরের উপকণ্ঠে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ওই বাড়িতে বাস্তুচ্যুত একটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল। হামলায় নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও দুই নারী রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলার পর গ্রামজুড়ে সাইরেন বাজছে এবং চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই হামলার দায় স্বীকার করে বলেছে, তারা হিজবুল্লাহর রাদওয়ান ফোর্সের একটি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার আলি সামির আল-হাজ হাসানকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছে। আইডিএফের দাবি, হাসানকে একটি সামরিক সদর দপ্তরের ভেতর থেকে নির্মূল করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযোগ, ওই কমান্ডার তার পরিবারের সদস্যদের ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন, যার ফলে তারাও হতাহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর হামলায় তিন ইসরায়েলি সেনা গুরুতর আহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। গোষ্ঠীটির দাবি, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে এবং পরে সেই স্থানগুলোকে সামরিক স্থাপনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “নিহতরা সবাই নিরপরাধ বেসামরিক মানুষ ছিলেন। সেখানে কোনো সামরিক অবকাঠামো ছিল না। ইসরায়েলকে এই উত্তেজনা বন্ধ করতে হবে।”
আনসার শহরের পর শনিবার দেইর আল-জাহরানি শহরেও কয়েক দফা হামলা চালায় ইসরায়েল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, সেখানে চারজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন।
২০২৬ সালের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ত্রিদেশীয় (ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান) সংঘাতের ফলে লেবানন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইসরায়েল বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ৫ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে। দফায় দফায় আকাশ ও স্থল অভিযানে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।