ইসরায়েল ও মোসাদের পূর্বাভাসের চেয়ে দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ইরানের
৪০ দিনের বিধ্বংসী যুদ্ধ ও ৩০ হাজার বিমান হামলার পরও দ্রুত উৎপাদনে তেহরান, কৌশলগত নতুন দ্বিধায় তেলআবিব
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ১১:০৫:৫৮ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ১১:০৫:৫৮ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৪২ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
ইহুদিবাদী ইসরায়েলের হিব্রু মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের যুদ্ধের পর ইরান তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা এমন গতিতে পুনর্গঠন করেছে যা ইসরাইলের সামরিক বাহিনী ও মোসাদের পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক দ্রুততর। এতে জায়নবাদী তথা ইহুদিবাদী ইসরায়েলে তেহরানের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত পুনরুদ্ধারের সামর্থ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৪০ দিনব্যাপী মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধের সময় প্রতিরক্ষা-শিল্প স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও এই পুনরুদ্ধার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের বাইরে ইরানের সামরিক শিল্পের বিভিন্ন খাতেও বিস্তৃত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর ও ২০২৫ সালের জুনের হামলার পরও ইসরাইল একই ধরনের চমকের মুখোমুখি হয়েছিল, যখন তাদের মূল্যায়নে ইরানের উৎপাদন পুনরুদ্ধারে বছরব্যাপী বিলম্ব হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তেহরান বারবার প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত উৎপাদন পুনরায় চালু করার উপায় খুঁজে বের করেছে।
২০২৬ সালের যুদ্ধের সময় দখলদার ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ২,৬০০-এর বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক-শিল্প স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং প্রায় ৩০,০০০ বিমান হামলা চালায়। ওয়াশিংটন ও তেলআবিব তখন বলেছিল যে তেহরানের উৎপাদন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে বর্তমান মূল্যায়ন ইঙ্গিত দেয় যে ইরান ইহিদবাদী ইসরাইলের প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত গতিতে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন পুনরায় শুরু করেছে। প্রতিবেদনে উল্লিখিত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে ছিল ক্ষতিগ্রস্ত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা থেকে বুলডোজারের মাধ্যমে দ্রুত ধ্বংসাবশেষ অপসারণ, যা উৎপাদন পুনরায় চালু করতে সহায়তা করে।
যদিও যুদ্ধ-পরবর্তী হিসাব অনুযায়ী ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ৫০০ থেকে ১,০০০টির মধ্যে ছিল, কিন্তু এখন মনোযোগ মূলত তেহরানের পুনর্নির্মাণের ক্রমবর্ধমান গতির দিকে কেন্দ্রীভুত হয়েছে।
জে.পোস্টের মতে, যদি ইরান প্রতি মাসে ১০০ থেকে ৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বজায় রাখে, তবে এটি ২০২৭ সালের শুরু বা মাঝামাঝি নাগাদ ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ের অস্ত্রাগারের মাত্রা পুনরুদ্ধার করতে পারবে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে পুনরায় বড় ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি ইসরাইলের জন্য একটি কঠিন কৌশলগত দ্বিধা তৈরি করেছে: তেলআবিব ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর ওপর আরেকটি হামলা চালাবে নাকি পারমাণবিক বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেবে, বিশেষত যেহেতু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিতে সামান্যই আগ্রহ দেখিয়েছেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।