উত্তর আরব সাগরে ভারত-পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজের সংঘর্ষ, উঠছে প্রশ্ন
স্বাধীন প্রমাণ না মিললেও ভারতীয় কর্মকর্তারা পাকিস্তানি জাহাজটির চলাচল নিয়ে তুলেছেন প্রশ্ন
- আপলোড সময় : ১৭-০৯-২০২৬ ০৭:৫৩:১৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-০৯-২০২৬ ০৭:৫৩:১৯ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১০৩ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
উত্তর আরব সাগরে ভারত ও পাকিস্তানের দুটি যুদ্ধজাহাজের সংঘর্ষের ঘটনায় এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে একে অপরের কাছাকাছি যাওয়ার ফল—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি, পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জাহাজ পিএনএস হুনাইন ‘অপেশাদার ও অনিরাপদভাবে’ চলাচল করছিল। তবে সংঘর্ষটি ইচ্ছাকৃত ছিল—এমন স্বাধীন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় ওমান উপসাগর থেকে প্রায় ১২০ নটিক্যাল মাইল দূরে উত্তর আরব সাগরে এ ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানি নৌবাহিনীর পিএনএস হুনাইনের সঙ্গে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি কলকাতা-শ্রেণির যুদ্ধজাহাজের সংঘর্ষ হয়। এতে কোনো জাহাজের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সন্দীপ উন্নীথান ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছেন না বলে মত দিয়েছেন। তার ভাষ্য, এটি সমুদ্রে অন্য পক্ষকে চাপ প্রয়োগ বা ভয় দেখানোর কৌশলও হতে পারে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আধুনিক নেভিগেশন ও নজরদারি প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও পিএনএস হুনাইন কেন উচ্চগতিতে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজটির দিকে এগিয়ে গেল।
উন্নীথানের মতে, অন্য জাহাজের পাশে গিয়ে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করা, সামনে দিয়ে পথ কেটে যাওয়া কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ানো সামুদ্রিক বিরোধে ব্যবহৃত পুরোনো কৌশল। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও সামুদ্রিক মিলিশিয়ার বিরুদ্ধে এমন কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ প্রসঙ্গে পাকিস্তান ও চীনের সামরিক সম্পর্কের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। পাকিস্তান চীনের কাছ থেকে যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন সংগ্রহ করছে এবং দুই দেশের নৌবাহিনী নিয়মিত যৌথ মহড়ায় অংশ নেয়। ফলে চীনের সামুদ্রিক কৌশলের কোনো প্রভাব পাকিস্তানি নৌবাহিনীর ওপর রয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন ওই বিশ্লেষক।
তবে সংঘর্ষটি পরিকল্পিত বা ইচ্ছাকৃত ছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো স্বাধীন প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি। ভারতীয় এক নৌ কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক যুদ্ধজাহাজে রাডার, অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) ও একাধিক যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় আশপাশের জাহাজ শনাক্ত করা সম্ভব। কিন্তু কোনো কমান্ডার ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য জাহাজের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে ফেললে এসব প্রযুক্তি সবসময় সংঘর্ষ ঠেকাতে সক্ষম নাও হতে পারে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।